সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে
  • আশা করি, ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে : দীনেশ ত্রিবেদীমানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে  ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ারও আহবান জানানো হয়েছে।

    গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে আলোচনাকালে এসব অনুরোধ ও আহবান জানানো হয়। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে জানান, সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে।অন্যদিকে ত্রিবেদী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে।

     

    এদিকে গতকাল প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নয়াদিল্লি গেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি উঠে এসেছে এবং আমরা তাদের বলেছি এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবে।তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, শহীদ হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, সবই আমরা তাদের দিয়েছি। বিষয়টি এসেছে। আমাদের জন্য এটাও অত্যন্ত সেনসিটিভ বিষয়। আমরা বলেছি, এই হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য।

    প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ‘এনাবলিং এনভায়রনমেন্ট’ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশে তাঁর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশে এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত বলেও জানিয়েছেন।

    ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে ভারতের অবস্থান : ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্টের বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ যে অবস্থান জানিয়েছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের ব্যাপারে আমাদের যে পজিশন, আমরা ক্লিয়ারলি বলে দিয়েছি এবং সেটা গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে ভারতের কর্তৃপক্ষ। আমাকে সেটা গতকালও তাঁরা জানিয়েছেন, আজকেও তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে সেটা বলেছেন।’

    ভারত এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে কি না—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি শুধু দুঃখ প্রকাশের নয়। বাংলাদেশের একটি ‘কম্পিটেন্ট কোর্ট’ শেখ হাসিনার বিচার করে তাঁকে দণ্ড দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আদালতেই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘৫ তারিখে হাসিনা যে কাজটি করেছেন, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের জুডিশিয়ালির রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন। এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি বিশ্বের সব দেশের শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। ভারত সরকার বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রীয় স্তম্ভকে ‘আন্ডারমাইন’ করার মতো কোনো কাজ আর করবে না বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বিমসটেকের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসন অব বিমসটেককে। এই পার্থক্যটা আপনারা বোঝার চেষ্টা করেন।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সরকার গঠনের দিন ওই চিঠি হস্তান্তর করা হয় এবং তাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে দুই আমন্ত্রণের কোনটি গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’

    সাম্প্রতিক সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন এবং নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো বৈঠকে উঠেছিল কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখুন, এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল! আর এসব বিষয় একজন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাপ হয় না। লেভেলগুলো বোঝার চেষ্টা করেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির বিষয়ে মতবিনিময়।

    দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে : ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানা দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। অতীতকে পেছনে ফেলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে একটি নতুন সূচনা বা ফ্রেশ স্টার্ট জরুরি।

    তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু রয়েছে, যেগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান জানান, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়।

    ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা শুধু ভৌগোলিক সীমানা ভাগাভাগি করি না, আমরা সমৃদ্ধির স্বপ্নও ভাগাভাগি করি।’

    গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইস্যু থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ইস্যু না থাকলে সেটা প্রকৃত গণতন্ত্র হতে পারে না। তবে সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দুই দেশের জনগণের একটাই মূল প্রত্যাশা—তা হলো একটি সুদৃঢ় ও চমৎকার সম্পর্ক, যা উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর পরিবেশ তৈরি করবে।

    হাইকমিশনার বলেন, আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা যাবে না—দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো জটিল ইস্যু নেই। তিনি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    বৈঠকে মন্ত্রী বিদ্যমান বন্দিবিনিময় ও এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সব চিহ্নিত পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি করার লক্ষ্যে ফেরত পাঠাতে ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানান। তা ছাড়া শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী যথাশিগগির সম্ভব বাংলাদেশে ফেরত প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। হাইকমিশনার ভারতের পক্ষ থেকে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান। সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুবই ভালো লাগল। আমরা পাবলিক ফিগার থেকে আরো বেশিদূর এগিয়ে সাক্ষাৎ করেছি, একজন কূটনীতিক হিসেবে নয়। তাহলে এটা মানুষে মানুষে যোগাযোগের প্রতিনিধিত্ব করেছে। আমি খুবই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হলো। আর দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন মনে হয়নি যে প্রথমবার আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করছি। তিনি খুবই ভালো।

    দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, খুবই ভালো আলোচনা হলো, খুবই ভালো…লুকিং ফরওয়ার্ড। আমাদের ইনভাইটেশন তো আগে থেকে আছে। প্রাইম মিনিস্টার অব ইন্ডিয়া লুকিং ফরওয়ার্ড এবং ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দুই নেতা একসঙ্গে বসলে আলোচনা হলে, ডেমোক্রেসিতে ইস্যু থাকবে, ইস্যু না থাকলে ওটা ডেমোক্রেসি নয়।

    তিনি বলেন, আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে ভালো সম্পর্ক। ভালো সম্পর্ক হলো উইন-উইন সিচুয়েশন। আমাদের যে হিস্টরিক্যাল সম্পর্ক আছে, ওইটা তো আপনি বদলাতে পারবেন না। আমাদের নেইবারহুড তো বদলাতে পারবেন না। আমি সব সময় বলি যে উই ডোন্ট অনলি শেয়ার দ্য বর্ডার, শেয়ার ড্রিমস।

    দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমার মনে হচ্ছে আগামী দিন ভালোই হবে। ইস্যুটা সর্ট আউট করতেই হবে দুদিক থেকে। আর আই এম ভেরি কনফিডেন্ট, আই এম ভেরি ভেরি কনফিডেন্ট। আমার খুবই খুবই ভালো লাগছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলো প্রথমবার। আমি দুই নেতার প্রতিই কৃতজ্ঞ।

    তিনি বলেন, আমি কনফিডেন্টলি বলতে পারি, এমন কোনো ইস্যু নেই, যা আমরা বসে সমাধান করতে পারব না। আমার এখানে আসা, আমার প্রধানমন্ত্রীও আমাকে সব সময় এটা বলেছেন যে সম্পর্ক ভালো থাকা বিশেষ দরকার। নাহলে আমি কেন আসি?

    এ সময় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিতে ভারত যাবেন কি না—এমন প্রশ্নে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, হবে হবে, সবই ভালো, ইতিবাচক সবকিছুই হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com