সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পা কেঁপে ওঠে প্রতীকী কবরে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রবেশ মুখেই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ ছাত্র-জনতার প্রতীকী কবর তৈরি করা হয়েছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিট শাসনে আত্মোৎসর্গকারী প্রায় চার হাজার শহীদের স্মৃতি সংরক্ষণে তৈরি করা হয়েছে মেমোরিয়াল। এর চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে তাদের নাম। তাই জুলাই জাদুঘর খোলার প্রথম দিনে প্রবেশমুখেই থমকে দাঁড়ায় মানুষ।

দর্শনার্থীরা যখন ভেতরে প্রবেশ করেন, অনেকেই কয়েক মুহূর্ত এই ফলকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। কেউ লেখাগুলো মন দিয়ে পড়েন, কেউ ছবি তোলেন, আবার কেউ নীরবে চারপাশে তাকিয়ে থাকেন। যেন ভেতরে প্রবেশের আগে নিজেকে প্রস্তুত করে নেন—একটি কঠিন, বেদনাময় অথচ গৌরবময় ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়ার জন্য।

দর্শনার্থী আশিকুর রহমান বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির জল শুকিয়ে যাবে, ফলকটি আবার ঝকঝকে হয়ে উঠবে। কিন্তু এখানে লেখা যে ইতিহাস, যে আত্মত্যাগ, যে সংগ্রামের কথা তা শুকাবে না, মুছবে না। কারণ, একটি জাতির সবচেয়ে বড় স্মৃতিস্তম্ভ পাথর বা ইস্পাত নয়; মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকা স্মৃতিই তার প্রকৃত ঠিকানা।

এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে থাকা এই ফলক যেন দর্শনার্থীদের প্রথম শিক্ষক। ভেতরে প্রবেশের আগেই এটি বলে দেয়—এখানে কেবল নিদর্শন দেখতে আসেননি, এসেছেন মানুষের সাহস, ত্যাগ আর প্রতিরোধের ইতিহাসের সামনে দাঁড়াতে। ফলকের গায়ে লেখা আছে জাদুঘরের বিভিন্ন অংশের পরিচয়। কোথাও ‘দি পিপলস ডেমোক্রেসি’, কোথাও ‘রোড টু ফ্রিডম’, কোথাও ‘মেমোরিয়াল’, আবার কোথাও ‘ভয়েস’। প্রতিটি নামের ভেতরে লুকিয়ে আছে একেকটি গল্প। কোনোটি প্রতিবাদের, কোনোটি রক্তের, কোনোটি আবার ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতার।

বৃষ্টির পানিতে ভিজে অক্ষরগুলো কিছুটা ঝাপসা হয়ে আসে। তবু ইতিহাস ঝাপসা হয় না। বরং মনে হয়, এই জল যেন সেইসব মায়ের অশ্রু, যাঁরা সন্তান হারিয়েছেন; সেইসব বাবার নীরব কান্না, যাঁরা অপেক্ষা করেও আর সন্তানের ফিরে আসা দেখেননি; কিংবা সেই তরুণদের অপূর্ণ স্বপ্ন, যাঁরা একটি নতুন বাংলাদেশের আশায় রাজপথে নেমেছিলেন।

এক সময় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত এই ঐতিহাসিক স্থানটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে জনতার স্মৃতিস্তম্ভে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে উন্মুক্ত করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সবার জন্য উম্মুক্ত করা হয়েছে। জুলাই জাদুঘরের মূল ভবনের নিচ তলায় ধরা আছে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের ইতিহাস এবং দ্বিতীয় তলায় গণ–অভ্যুত্থানে এ দেশের মানুষের প্রতিবাদের স্মৃতি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com