আজ বাইশে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৬তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৪১ সালের আজকের দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। ৮৫ বছর পরও দিনটি বাঙালির কাছে শুধু একজন কবির প্রয়াণের তারিখ নয়, তাঁকে নতুন করে ফিরে দেখার উপলক্ষ।
রবীন্দ্রনাথের জীবনকে শুধু জন্ম, সাহিত্যকর্ম, নোবেল পুরস্কার ও মৃত্যুর কয়েকটি তারিখে আটকে রাখলে তাঁর ব্যাপ্তির বড় অংশই অদেখা থেকে যায়। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি কবিতা, গান, ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধের পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজ ও শিল্পচিন্তায়ও রেখে গেছেন গভীর ছাপ। শৈশবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় স্থির হতে না পারলেও পারিবারিক শিক্ষার বিস্তৃত পরিবেশ তাঁকে গড়ে তোলে। কৈশোরেই শুরু হয় তাঁর সাহিত্যচর্চা; পরিণত বয়সে সেই সৃষ্টিশীলতা ছড়িয়ে পড়ে নানা মাধ্যমে।
রবীন্দ্রজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক পূর্ববাংলা ঘিরে। পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার সূত্রে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসরসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর যাতায়াত ছিল। বিশেষ করে শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে কাটানো সময় তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে গ্রামবাংলার জীবন ও প্রকৃতির নিবিড় অভিজ্ঞতা। বহু গল্পে সাধারণ মানুষের জীবন, দুঃখ-বঞ্চনা ও সম্পর্কের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। জমিদারির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি প্রজাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, পানীয় জল, সড়ক ও ঋণমুক্তির মতো বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রচলিত শিক্ষার বাইরে প্রকৃতি ও মুক্ত পরিবেশে শিক্ষার যে ধারণা তিনি লালন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তার বিস্তার ঘটে বিশ্বভারতীতে। শিক্ষা তাঁর কাছে কেবল পাঠ্যজ্ঞান অর্জন নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষ, প্রকৃতি ও বিশ্বের সম্পর্ককে গভীরভাবে বোঝার পথ।
১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদসহ তাঁর কবিতার জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান রবীন্দ্রনাথ। নোবেল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ইংরেজিতে প্রকাশিত কবিতার সংবেদনশীলতা ও সৌন্দর্যই তাঁকে এ স্বীকৃতি এনে দেয়। বিশ্বখ্যাতির পরও দেশের বাস্তবতা থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হননি। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইট উপাধি গ্রহণ করলেও ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তা ত্যাগ করেন।