২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ও ভয়াল দিনগুলো পেরিয়ে আসে চূড়ান্ত বিজয়। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। তবে সেই বিজয়ের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অধরা আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তেমনি সবার অগোচরে রাজপথের সেই বীরেরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি এবং বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন তারা।
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি
জাতীয় প্রেস ক্লাব ও জিরো পয়েন্টে আন্দোলনে শামিল হওয়া সাধারণ রিকশাচালক সুজন মিয়া সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিগত ১৭ বছরের অত্যাচার ও অন্যায় যখন চোখের সামনে দেখছিলাম, নিজের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে উঠছিল। আমরা তো ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু এই ছাত্র-জনতার ভেতরেই সেই মুক্তির রূপ দেখতে পাচ্ছিলাম। কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া, সাধারণ মানুষ হিসেবে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। তবে দুই বছর পর আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় গেজেটে তাঁর নাম ওঠেনি। উল্টো নিরাপত্তার হুমকিতে মুক্তভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে না পেরে বর্তমানে আত্মগোপনে সামান্য শ্রমিকের কাজ করে দিন যাপন করছেন। গুলিবিদ্ধ সহযোদ্ধা নাফিজকে নিজের রিকশায় ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বীর রিকশাচালক নূরু মিয়া বলেন, দুই বছর পার হয়ে গেল, কিন্তু আমাদের মতো খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।