বাংলাদেশ পুলিশের ৫৩০ সদস্যের তিনটি কন্টিনজেন্ট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ধাপে বাছাই করে টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তাদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে হাইতিতে শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করতে বর্তমানে হাইতি ও জাতিসংঘ সদরদপ্তরে রয়েছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল। পুলিশের একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জাতিসংঘের বাজেট সংকটের কারণে যখন মিশনে বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য কমে যাচ্ছে, ওই সময় হাইতিতে এত সংখ্যক পুলিশ সদস্যের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, সোয়াটসহ একাধিক বিশেষায়িত ইউনিটের সদস্যরা হাইতির মিশনে যাচ্ছেন।
গত বছরের অক্টোবরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্টকে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে একসঙ্গে হাইতিতে ৫৩০ জন পুলিশ সদস্য যাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এবার বিশেষায়িত বেশ কিছু ইউনিট থেকে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্য হাইতিতে শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করবেন। এর মধ্যে আছে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ টিম, ফরেনসিক, অর্গানাইজড ক্রাইম, নৌ পুলিশ ক্রাইম সিন, ভিআইপি প্রটেকশন ও সোয়াট। হাইতিতে যারা যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জনের মতো সোয়াট সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি বিশেষায়িত ইউনিট থেকে কমপক্ষে পাঁচজন থাকছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হাইতিগামী তিনটি কন্টিনজেন্টের প্রধান হবেন তিনজন পুলিশ সুপার পদের কর্মকর্তা। এ ছাড়া সব মিলিয়ে ১২ জন কর্মকর্তা তিনটি ইউনিটে যুক্ত থাকবেন। এর বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পরিদর্শক, এসআই, কনস্টেবল এই দলে রয়েছেন।
পুলিশ সদরদপ্তরের সূত্রটি জানায়, ৩৭ বছরে পুলিশের ২১ হাজার ৮১৬ জন সদস্য শান্তিরক্ষী হিসেবে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত পুলিশের সংখ্যা কখনও ২৩০-এর নিচে নামেনি। এমনকি ২০১৩ ও ২০১৬ সালে বিশ্ব থেকে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি ছিল।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার কাজে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ২৪ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫ জন।
শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে একজন পুলিশ সদস্য মাসে ২ হাজার থেকে ৭ হাজার ডলার বেতন পান। গাড়ি, অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাড়া বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা আয় করে পুলিশ।