মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অনন্তলোকে গ্যারি সোবার্সের

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সুপার কম্পিউটারকে যদি বলা হয় এমন একজন ক্রিকেটার বানিয়ে দাও, মাঠে নেমে যে সবকিছু করতে পারবে। সুপার কম্পিউটার যা বানিয়ে দেবে, সেটির কী নাম দেবেন? উত্তরটা খুব সহজ—গ্যারি সোবার্স। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান এই অলরাউন্ডার সুপার কম্পিউটারের বানানো কোনো কল্পনার ক্রিকেটার ছিলেন না, ছিলেন রক্তমাংসের মানুষই। যদিও মাঠে তাঁকে দেখে এ নিয়ে কারও সন্দেহ জাগতেই পারত।

কী করতে পারতেন না সোবার্স! ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বকালের সেরাদের ছোট্ট তালিকাতেও রাখতে হয় তাঁকে, পেস–স্পিন দুই রকম বোলিংয়েই ছিলেন প্রায় সমান পারদর্শী, অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে করতে পারতেন রিস্ট স্পিনও। মাঠের যেকোনো জায়গায় ছিলেন দুর্দান্ত ফিল্ডার, ক্লোজ ইন পজিশনে দাঁড়ালে ক্যাচ যেন চুম্বকের মতো আটকে যেত তাঁর হাতে। প্রায় অলৌকিক এক ক্ষমতা নিয়ে এসেছিলেন পৃথিবীতে। তারপরও রক্তমাংসের মানুষই তো! যে কারণে পৃথিবী ছেড়ে চলেও যেতে হলো। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে যাঁর প্রায় সর্বজনগ্রাহ্য স্বীকৃতি, সেই স্যার গ্যারি সোবার্সের জীবনের ইনিংস শেষ হয়ে গেছে গতকাল। বার্বাডোজে নিজের বাড়িতেই ফেলেছেন শেষনিশ্বাস। পৃথিবীতে তাঁর বিচরণ ৮৯ বছর। ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্তকাল।

এক ফ্রেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক দুই অধিনায়ক গ্যারি সোবার্স ও ক্লাইভ লয়েডএএফপি

জন্ম হয়েছিল বার্বাডোজের এক হতদরিদ্র পরিবারে। জন্মের সময় দুই হাতেই ছিল একটি করে বাড়তি আঙুল। একদিন ক্রিকেট মাঠে অতিমানবীয় সব কাণ্ড করবেন, সেটিরই ইঙ্গিত ছিল কি না, কে জানে! বাড়তি সেই দুটি আঙুল নিজেই নাকি ছুরি দিয়ে কেটে ফেলেছিলেন। অবিশ্বাস্য এই গল্প সোবার্সের আত্মজীবনীতে লেখা আছে, শুনেছি তাঁর নিজের মুখেও। ১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্বাডোজের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। সেটিও সফরকারী ভারতের বিপক্ষে। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতকে ফলোঅন করানোয়ও বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। এক বছর বোলার হিসেবেই টেস্ট অভিষেক। জ্যামাইকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট। ব্যাটিংয়ে দুই ইনিংসে ১৪ ও ২৬ রান। এর চেয়ে বেশি করবেন কীভাবে! ব্যাটিং করেছেন যে ৯ নম্বরে।

তারপরও টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের এই রেকর্ড টিকে ছিল ৩৬ বছর। ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারা যখন তা ভেঙে দেন, তাঁকে অভিনন্দন জানাতে মাঠে নেমে যান সোবার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই একজন ভেঙেছেন বলে রেকর্ড হারানো নিয়ে বিন্দুমাত্র খেদও ছিল না তাঁর।

সেই ট্রিপল সেঞ্চুরির এক দশক পর ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে আরেক কীর্তি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ওভারের ৬ বলেই ছক্কা। সোয়ানসিতে যা করে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলা সোবার্স গ্ল্যামরগনের বাঁহাতি বোলার ম্যালকম ন্যাশকেও ইতিহাসে অমর করে দেন। যদিও এই রেকর্ডটি নিয়ে সোবার্সের মোটেই কোনো উচ্ছ্বাস ছিল না। ২০০৯ সালে বার্বাডোজে সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় এই রেকর্ড নিয়ে কথা বলতে বরং পরিষ্কার অনাগ্রহই প্রকাশ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘ছয় বলে ছয় ছক্কা কোনো ভালো ক্রিকেট নয়। কোনো তরুণ ক্রিকেটারকেই আমি তা করতে বলব না।’

যদিও ক্রিকেট ইতিহাস আরও অনেক কিছুর মতো এ কারণেও মনে রেখেছে। আইসিসির বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কারের নামটি যে স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি—এটাও কিছুটা বলে দেয় সোবার্স–মাহাত্ম্য।

তবে পরিসংখ্যান নিয়ে যা বলা হয়েছিল, তা বলা যায় এখানেও। সোবার্সকে এতেও বোধ হয় পুরোটা বোঝানো যায় না। ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ছিলেন ‘একের ভেতরে অনেক’। ওই যে সুপার কম্পিউটারকে বললে যেমন বানাত আর কী!

প্রমি নিউজ বিডি

বিভিন্ন সূত্রঃ মিডিয়া থেকে নেয়া আমরা তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com