প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমাদের সব আয়োজন তোমাদের ঘিরে। কারণ, আমরা এখন আছি, পরে থাকব না। কিন্তু তোমরা থাকবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তোমরা দেবে।’
গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই মঞ্চ থেকে সারাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে সব বিষয় কিন্তু তোমাদের নিয়ে। তোমাদের বন্ধু-বান্ধব যারা সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছ, এই আয়োজন তোমাদের ঘিরে। তোমরা বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে যাবে, তোমরা দেশকে গড়ে তুলবে। সেটি খেলাধুলায় হোক বা উদ্ভাবনে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তোমরা দেবে। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আমরা খেলাধুলা, সংস্কৃতি, ইনোভেশন নিয়ে আসতে চাচ্ছি। এটি হঠাৎ করে আমার চিন্তা করে আনছি না। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা।
পাশে বসা শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের বলেন, তোমাদের মধ্যে যে দক্ষতাগুলো রয়েছে, সেগুলো বের করে আনার পরিকল্পনা আমরা গত ১০ বছর ধরে করছি। মাহদী আমিন যখন অক্সফোর্ডে পড়ত, তখন আমরা বসে বসে ভাবতাম, যখন আমরা দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পাব, তখন এগুলো করব।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও বাইবেলের অংশ বিশেষ পাঠ করা হয়। এছাড়া একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। অনুষ্ঠানে সারাদেশের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
এতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এ ধরনের আয়োজনের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে গত ১২ জুন সারাদেশে শুরু হয় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি উপজেলা-থানা, জেলা এবং জাতীয়—এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল অনুষ্ঠানে প্রতিটি ধাপের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
বিজয়ী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, পদক ও সনদপত্র এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানকে স্মারক প্রদান করা হয়। সবশেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ বিষয়ে চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে পুরস্কার নেয় রাজধানীর সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
এর আগে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ স্লোগানে একযোগে দেশের ২৯ হাজারের বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী এ কর্মসূচির সূচনা করেন। এ সময় সম্মেলন কেন্দ্রে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্তি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
বছরে অন্তত একটি গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বছরে একটি করে গাছ লাগালে গাছ যেমন বড় হবে, তেমনি তোমরাও বড় হবে। একসময় সেই গাছকে নিজের বন্ধুর মতো মনে হবে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নতুন কোনো ভাই বা বোন জন্ম নিলে তাদের নামে একটি গাছ রোপণ করা যেতে পারে। তিনি সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে নিমগাছের চারা পাঠানো হয়েছিল। পরে সেসব চারা থেকে বিপুলসংখ্যক নিমগাছ রোপণ করা হয়, যা বর্তমানে আরাফাতের ময়দানে ছায়া দিচ্ছে।’
দেশের কল্যাণে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দুপুরের বিরতিতে অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।