সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ষড়যন্ত্র রুখতে হবে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, দেশের মানুষের রক্ত ঘাম করা উপার্জনের আর একটি টাকাও বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না। বিগত স্বৈরাচারী সরকার ও তাদের সহযোগীরা যেভাবে দেশের অর্থ লুণ্ঠন করেছে, সেই পথ চিরতরে বন্ধ করে লুণ্ঠিত টাকা দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা মূলত জনগণের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা সদর এবং শ্রীমঙ্গলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আয়োজিত পৃথক দুটি বিশাল জনসভা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শ্রীমঙ্গলে চা বাগান শ্রমিকদের মাঝে এবং মৌলভীবাজার সদরে দুস্থ ও প্রান্তিক পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ডের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন ও বিতরণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উভয় সমাবেশেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ ছাড়িয়ে চারপাশের রাস্তাঘাট জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

একদিনের সফরে সকাল সোয়া ১০টায় সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেটে থেকে সড়কপথে দুপুর ১টায় পৌঁছান শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। প্রধানমন্ত্রী পৌঁছার আগেই জনসভাস্থলে জড়ো হন দলীয় নেতাকর্মী ও হাজারো চা শ্রমিক।

তারেক রহমান বলেন, ১১ জানুয়ারি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে আমরা যে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিলাম, সেদিনই মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের জনসভায় আমি চা বাগানের অবহেলিত নারী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া, সরকার গঠনের অল্প দিনের মাথায় আমি আমার সেই কথা রাখতে পেরেছি। তিনি বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি আমরা সরকার গঠন করেছি। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি শুধু বিএনপির ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরদিন থেকে তা সমগ্র বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ম্যান্ডেটে পরিণত হয়েছে। আমরা এখন দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের ২০ কোটি মানুষের সরকার। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, বর্তমান সরকার সবার অধিকার রক্ষায় সমানভাবে দায়বদ্ধ।

শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের দুটি অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার এক দীর্ঘ খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের মোট ৪০ লাখ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশেষ করে চা বাগানের নারী প্রধানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের ৪০ লাখ প্রান্তিক কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।

শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন একজোড়া স্কুল ড্রেস এবং উন্নতমানের স্কুল ব্যাগ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। দেশের সব উপজেলার ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। দেশের প্রতিটি মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের গুরুদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা আগামী এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং নদী-খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের জনসভা শেষে বেলা ৩টার দিকে পৌঁছান মৌলভীবাজারের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সুধী সমাবেশে। সেখানেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শেষে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ার করে তারেক রহমান বলেন, কিছু দল ও ব্যক্তি এখন থেকেই বলা শুরু করেছে যে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তারা মূলত জনগণের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। বিগত এক যুগ ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যখন ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন, মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে জেল খেটেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, তখন এই ষড়যন্ত্রকারীদের রাজপথে দেখা যায়নি। এরা স্বাধীনতার আগে ও পরেও স্বৈরাচারী ও সুবিধাবাদী শক্তির সঙ্গেই ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বিএনপি আগামী ৫ বছর পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে। তাহলে আমার প্রশ্ন-জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে, যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে তাহলে কী করা উচিত? তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মক্ষম করে আমরা স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ব। জনগণই এ দেশের প্রকৃত মালিক। মালিক যদি সজাগ থাকে, তবে কোনো ষড়যন্ত্রকারী দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নস্যাৎ করতে পারবে না।

উভয় অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ-সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, স্থানীয় সংসদ-সদস্য নাসের রহমান, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুনসহ স্থানীয় নেতারা। দুটি অনুষ্ঠানেই শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৩শ জনকে ফ্যামিলি কার্ড, বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসা সাহায্য হিসাবে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকার চেক, দুস্থদের ঘর নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়।

আরও কয়েক জায়গায় ভার্চুয়ালি ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন : বুধবার ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় রংপুরের পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ৬৬৫ জন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া চা বাগানের ৩৭৯ জন চা শ্রমিক, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার (সদর) ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৫৬টি সুবিধাভোগী পরিবার, খাগড়াছড়ির রামগড়ে ৪৫৬ জন ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এসেছেন। বুধবার মৌলভীবাজারের জনসভা থেকে সুইচ টিপে ভার্চুয়ালি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এমপিদের প্রধানমন্ত্রী বললেন সংসদ নাই? সংসদে যান : সিলেট ব্যুরো জানায়, শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার পথে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে বিমানটি অবতরণ করলে স্থানীয় সংসদ-সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে সিলেটে স্বাগত জানিয়ে করমর্দন করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি জিকে গৌছ, এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী, এমপি আব্দুল মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল খায়ের শামীম। এ সময় সিলেট ও হবিগঞ্জের সংসদ-সদস্যদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ নাই আজকে? সংসদে যান। আমি মৌলভীবাজার যাব। আপনাদের এখানে কোনো কাজ নেই, আপনারা সংসদে যান।

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com