জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। তা না হলে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। তা না হলে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
নেতাকর্মীদের জেল বা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাঁরা বারবার কারাগারে যেতে এবং জীবন দিতেও প্রস্তুত।
দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সরকারে একজন ‘সর্ববিষয়ে বিশারদ’ মন্ত্রী আছেন, যিনি প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের কাজ পরিচালনা করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয়করণ ও ভিন্নমত দমনের প্রবণতা বাড়ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানিসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এসব সংকট মোকাবেলায় বাজেটে কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই।
এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সামাজিক অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান তিনি। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান। আরো বক্তব্য দেন মামুনুল হক, রাশেদ প্রধান, মুসা বিন ইজহার, আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাখাওয়াত হোসাইন, শাহজাহান চৌধুরী, আ ন ম শামসুল ইসলাম, এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।
হাইকমিশনারের বক্তব্যের সুরাহা : বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পৌঁছানোর পর তাঁর একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তাঁর কাছ থেকে তা জেনে নেওয়া।
তিনি আরো লেখেন, ‘ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তাঁর এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে। আমরা আমাদের সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।’