জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট তিন হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্প দুটি শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন জটিলতায় থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্পটিও সময়ের স্বল্পতার কারণে আলোচনায় আসেনি।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি নতুন প্রকল্প, তিনটি সংশোধিত প্রকল্প এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন তিন হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন’ প্রকল্প।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মাদরাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ এবং দেশের ৬৫৩টি মাদরাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের সংশোধিত সংস্করণ।
পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
শর্ত সাপেক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেয়েছে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ভবন নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক (কনসালট্যান্সি) ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভবনের উচ্চতা কিছুটা বাড়ানো এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনাসচিব শাকিল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রকল্প দুটি শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একনেকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পুনরায় পাঠানো হলে প্রকল্প দুটি অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। এ জন্য সেগুলোকে আবার একনেক সভায় উপস্থাপনের প্রয়োজন হবে না।’
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে এরই মধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরো ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিশুবিবাহ
প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প।
একনেকের আলোচ্যসূচিতে থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটির অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি আরো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্পটি আগামী একনেক সভায় উত্থাপন করা হতে পারে এবং তখন অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।