মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

‘নিরপেক্ষ’ গন্তব্য মালয়েশিয়া বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায় হতে যাচ্ছে। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী ২১ জুন তিনি কুয়ালালামপুর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর এপ্রিলে চীন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিং নিতে তৎপরতা শুরু করা হয়। সফর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আর চীনের পক্ষ থেকে ২৩ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩-২৬ জুন তারেক রহমানকে বেইজিং সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর শুরুর সফরটি চীন হবে, এ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর চীন হলে তা প্রতিবেশী দেশে ভিন্ন বার্তা যাবে। আবার প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর ভারত হলেও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভিন্ন বার্তা যাবে। এ কারণে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখতে চীন সফরের আগে ‘ইনোসেন্ট কান্ট্রি’ বা নিরপেক্ষ গন্তব্যের সন্ধান করা হয়।

শুরুতে ওমরাহ পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব যাবেন কিনা এবং সেখানে ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করা যায় কিনা, এ বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে ভুটানের মতো সার্কভুক্ত দেশ দিয়ে শুরু করা যায় কিনা, সে বিষয়টি নিয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। যেহেতু মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণ ছিল, তাই নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া হয়।

নাম না প্রকাশের শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, কয়েক দশক ধরেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরাশক্তিগুলো আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে স্বার্থপর আচরণ করে আসছিল। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে স্বার্থপরতা উন্মোচন হতে শুরু করে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ফলে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ ক্ষীণ হয়ে আসছে। আর আঞ্চলিক ভূরাজনীতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে চীন সফরের আগে ইনোসেন্ট কান্ট্রি হিসেবে মালয়েশিয়াকে দেখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য শুধু প্রটোকলের বিষয় নয়; এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের একটি প্রতীকী বার্তাও।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ এসেছিল ভারত থেকে। একই সময় আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ভারসাম্য রক্ষায় চলতি মাসের ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুর যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো শাফকাত মুনির সমকালকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো ঢাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে রয়েছে বাংলাদেশের বিশাল শ্রম বাজার। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ক্ষেত্র উন্মোচন করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। গত ৫০ বছরে দেশটির সঙ্গে শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা বাণিজ্যসহ আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মালয়েশিয়াকে সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়াকে খুবই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে করি।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com