ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। রোগীর দেহের স্টেম সেল সংগ্রহ করে সেসব কোষের মধ্যে থাকা একটি বিশেষ জিন সরিয়ে স্টেম সেলগুলো আবারও রোগীর দেহে প্রবেশ করালে কয়েক ধরনের মারাত্মক ব্লাড ক্যান্সারের প্রকোপ কমানো যায়।
প্রথাগত ইমিউনোথেরাপি বা জিনথেরাপি যেসব ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব রোগীর ক্ষেত্রেও এ চিকিৎসা কার্যকর। ১২ মে এ গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়।
মোট ১৫টি ক্যান্সার হাসপাতালে চালানো এ গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন জন এফ ডিপার্সিও। তিনি বলেন, বেশির ভাগ ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রথাগত সিএআর-টি ইমিউনোথেরাপি যথেষ্ট।
কিন্তু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সারের প্রকোপ কমানো যায় না, উল্টো নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া ও মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোম রোগীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
পরীক্ষামূলক স্টেম সেল থেরাপি নেওয়ার পর বেশির ভাগ রোগীর ক্যান্সারের প্রকোপ কমে গেছে, তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিদ্যমান। যে ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপি প্রয়োগের কথা বলছেন গবেষকরা, সেসব ক্যান্সারে দ্রুতই মৃত্যু ঘটে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলেও রোগীর জীবন বাঁচানোকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।
ভবিষ্যতে মারাত্মক ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির পাশাপাশি স্টেম সেল থেরাপি দেওয়ারও সুপারিশ করেছেন গবেষকরা। তবে আগে এ থেরাপির দীর্ঘমেয়াদি কোনো জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না, সেটি জানা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুলও, সব রোগীর জন্য এই চিকিৎসা সহজলভ্য করাও সহজ হবে না।
♦ ডাক্তার আছেন ডেস্ক