মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের সফরে বুধবার চীনে পৌঁছেছেন। সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে তাঁকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের সফরে বুধবার চীনে পৌঁছেছেন। সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে তাঁকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং।
আজ বেইজিং বৈঠকে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, তাইওয়ান ইস্যু এবং ইরান যুদ্ধ—সব মিলিয়ে এবারের শীর্ষ বৈঠকটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যু সফরটিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কারণ চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার আহ্বানে অনড় অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ ট্রাম্প ও শির এই বৈঠক শুধু অর্থনৈতিক নয়, বৈশ্বিক কূটনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সফরের আগেই বলেছেন, ইরান নিয়ে শির সঙ্গে তাঁর ‘দীর্ঘ আলোচনা’ হবে, তবে বাণিজ্যই হবে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে শীর্ষ সম্মেলনে চীনের শি চিনপিং তাইওয়ান ও শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পকে চাপ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ছাড় চাইতে পারেন। উল্লেখ্য, মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে যে চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে, কিন্তু এর সঙ্গে তারা একমত কি না, সে বিষয়ে কোনো অবস্থান প্রকাশ করে না। আবার চীন যদি বলপূর্বক তাইওয়ান দখল করতে চায়, তবে তাকে রক্ষা করার জন্য ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়েও ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্টতা বজায় রাখছে। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে শি ও ট্রাম্প তাঁদের বাণিজ্য যুদ্ধে এক বছরের জন্য বিরতি দিতে সম্মত হন। তবে নির্দিষ্ট শুল্ক এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণসহ কিছু বাণিজ্যব্যবস্থা বহাল রাখেন। গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র চীনা সংস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক দফা নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল কেনার অভিযোগে অভিযুক্ত তেল শোধনাগার এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপকরণ সংগ্রহে তেহরানকে সাহায্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত সংস্থাগুলো। এই শীর্ষ বৈঠক চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৫ মে তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সফর পেছাতে বাধ্য হন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার পন্থা উদ্ভাবনে ফোকাস থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ।
প্রায় এক দশক পর ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে গেলেন। ২০১৭ সালে ট্রাম্প চীন সফর করেছিলেন। তখন চীন চাইছিল যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে। আন্তর্জাতিক সংকট গবেষণা সংস্থা আইসিজির সিনিয়র রিসার্চ ও অ্যাডভোকেসি অ্যাডভাইজার আলি ওয়াইন বলেন, ‘তখন চীনের প্রতিনিধিদল প্রচুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল যেন ট্রাম্পকে দেখানো যায় রাষ্ট্রপতি শি চিনপিং তাঁর সমকক্ষ। এবার সেই দাবি করার প্রয়োজন নেই।’ কারণ হালে যুক্তরাষ্ট্রই চীনকে ‘নিয়ার-পিয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ওয়াইন বলেন, ‘চীন সম্ভবত মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী। আর এই বাস্তবতা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।’ চীনের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও নব্যশক্তি এখন অনেক দৃঢ়। শি চিনপিংয়ের তৃতীয় মেয়াদে চীন ‘নতুন উৎপাদনশীল শক্তি’ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে—নবায়নযোগ্য শক্তি, রোবটিকস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে বৃহৎ বিনিয়োগ। এবার দুই দেশের সম্পর্ক অনেক বেশি জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সূত্র : এপি, রয়টার্স, আল জাজিরা