যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে (২৬) দাফন করা হয়েছে। গতকাল বিকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে উত্তরকান্দি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দিনই বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে ছিল শোকের ছায়া। শেষবারের মতো তাঁকে একনজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে চলতে থাকে কবর খোঁড়ার কাজ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকা। বৃষ্টির চাচি জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘বৃষ্টির মতো মেধাবী মেয়ে আমরা আর পাব না।’ চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘বৃষ্টি লাশ হয়ে ফিরেছে, এটা মানতে পারছি না।’ মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘বৃষ্টির নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’ জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য পরিবারটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার নাহার একাডেমি থেকে এসএসসি ও শহীদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন বৃষ্টি। পরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার আগেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পূর্ণ বৃত্তিতে পিএইচডির সুযোগ পান তিনি। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। ১৭ এপ্রিল বৃষ্টি ও আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। পরে তাঁদের হত্যার ঘটনা সামনে আসে। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিহত বৃষ্টি ও লিমনকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।