মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সংগঠন পুনর্গঠন ও বিরোধীদের নতুন বার্তা দিতে চায় বিএনপি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুুশ বিজয়ের পর প্রথমবার দলের সাংগঠনিক দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে মতবিনিময়সভা করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সভার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সময় পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগঠনিক রাজনীতিতে ফিরছে বিএনপি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ ছিল। এ মতবিনিময়সভার মূল লক্ষ্য নেতাকর্মীদের আবারও সাংগঠনিক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং দলকে গতিশীল করা।

মূলত সংগঠন পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকেও নতুন বার্তা দিতে চায় বিএনপি। কারণ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচিকে ‘ইতিবাচক’ মনে করছেন না বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচিকে ‘গ্রীষ্মকালে শীতের হাঁক’ দেওয়ার মতো মনে করেছেন তাঁরা। 

বিএনপি নেতারা জানান, আগামী শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে দিনব্যাপী এ মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মতবিনিময়সভা সাংগঠনিক রাজনীতির ধারাবাহিক কর্মসূূচি। এতে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি মোকাবেলা নয়, বরং ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ থাকার বিষয়ে কথা বলবেন দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি সরকার গঠনের পর বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটসহ নানা প্রাকৃতিক সংকটের মুখে পড়ে।
এই সংকট মোকাবেলা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নেও বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এমন প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচি কোরবানির ঈদের আগে পশু কেনাবেচা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের যে প্রস্তুতি চলে, সাধারণ মানুষের সেই প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এই ধরনের কর্মসূচিতে জনগণের সমর্থন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। 

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাংগঠনিক পুনর্গঠনে বিশেষ জোর দেওয়ার জন্যই মতবিনিময়সভা আহবান করা হয়েছে।

একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায়। দলের চেয়ারম্যান বর্তমানে রাষ্ট্রীয় কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রতিদিন সাংগঠনিক বিষয়ে সময় দিচ্ছেন। সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এখন দলের মূল মনোযোগ সাংগঠনিক পুনর্গঠনের দিকে। দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় আসার কারণে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলকে গুছিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব এই মতবিনিময়সভায় তুলে ধরা হবে।’ 

আগামী ১৬ মে থেকে বিরোধী দলগুলোর ঘোষিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই মতবিনিময়সভা কোনো পাল্টা কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি রুটিন সাংগঠনিক কাজ।’

বিরোধী দলের রাজপথ উত্তপ্ত করার এই প্রচেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার যখন ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য সর্বদলীয় কমিটির প্রস্তাব রেখেছে, তখন বিরোধী দলের নাম না দিয়ে কর্মসূচি দেওয়া দুঃখজনক। এটি ‘গ্রীষ্মকালে শীতের হাঁক’ দেওয়ার মতো। পবিত্র কোরবানির ঈদের আগে পশু কেনাবেচা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যে প্রস্তুতি চলে, বিরোধী দলের আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষের সেই প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচিতে জনগণ কখনো সমর্থন জানাবে না।”

সাংগঠনিক বিষয়ে এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, নির্বাচনের কারণে গত ডিসেম্বর থেকে তাঁরা মূলত নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং সাংগঠনিক কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এখন নতুন করে দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই মতবিনিময়সভার মূল উদ্দেশ্য হলো নেতাকর্মীদের আবারও সাংগঠনিক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং দলকে গতিশীল করা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাংগঠনিক বিষয়ের ওপর বিএনপির এটাই সবচেয়ে হাইয়েস্ট পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম। আমি যতটুকু জানি, যদিও এটা আমাদের চেয়ারম্যান ভালো জানেন, এটা উনি আয়োজন করতে বলেছেন, আমরা আয়োজন করছি। আমাদের দল যেহেতু নতুন সরকার গঠন করেছে, সরকার গঠনের পর নিশ্চয়ই জরুরি কিছু কাজকর্ম নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও এমপিরা ব্যস্ত ছিলেন। এরপর সংসদ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এখন যেহেতু সংসদ অধিবেশন নেই, এই সুযোগে সংগঠনের বিষয়ে সবার সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।’

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য দলের নেতাকর্মীদের আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ দেওয়ার জন্যই কি এই আয়োজন? এমন প্র্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা তো অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, সবাইকে ধন্যবাদ জানানো। যেহেতু আমাদের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় আমরা বিশাল বিজয় অর্জন করেছি; পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংগঠনকে কিভাবে আরো শক্তিশালী করা যায়, সংগঠনকে কিভাবে আমরা সামনে আরো গোছাতে পারি, সুন্দরভাবে সাজাতে পারি, এগুলোই আমাদের মূল টার্গেট থাকবে।’

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সারা দেশের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মতবিনিময়সভায় সারা দেশের ৮২ সাংগঠনিক জেলা, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সারা দেশের জেলা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত থাকবেন। সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন, নেতাকর্মীদের যা সংগঠনকে গতিশীল করতে শক্তি জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) তরিকুল আলম তেনজিং কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে দিনব্যাপী মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com