ভালুকা প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ ও তীব্র শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষিরা। মাঠে পাকা সোনালি ধান থাকলেও শ্রমিকের অভাবে তা সময়মতো ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে অল্পসংখ্যক শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদের দৈনিক মজুরি হাজার টাকার ওপরে হওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ভালুকায় ১৮ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার ৪২৭ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিচু এলাকার জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ধান পচে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে লাভের পরিবর্তে অনেক কৃষকেরই মূলধন রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের সাতেঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম গণমাধ্যমকে বলেন, এক একর জমির ধান পেকে আছে, কিন্তু কাটার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। আগে দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমিক আসলেও এবার তেমন কেউ আসছে না। যারা আসছে তারা বেশি মজুরি দাবি করছে।
একই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে মাঠের অর্ধেকের বেশি ধান এখনো কাটা হয়নি। এভাবে চললে অনেক ধান মাঠেই নষ্ট হয়ে যাবে।
নিচু জমির কৃষক আব্দুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই জমি তলিয়ে যাচ্ছে। কেটে রাখা ধান শুকাতে পারছি না, রোদও নেই। এতে বড় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার জন্য উপজেলা পর্যায়ে কম্বাইন হারভেস্টার থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে সেগুলো পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান গণমাধ্যমকে বলেন, এবার ভালুকায় ১০টি কম্বাইন হারভেস্টার থাকলেও এর মধ্যে ৫টি সচল রয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধ জমিতে সেগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অধিকাংশ ধান কাটা শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে কৃষকদের আশঙ্কা, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে এবং শ্রমিক সংকট না কাটলে মাঠের সোনালি ফসল বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।








