বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিকের অধিকারের প্রশ্নে সংসদের ভেতরে ও বাইরে লড়াই অব্যাহত থাকবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মে দিবস উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সংসদীয় রাজনীতিতে সংসদ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ওখানে গালগল্প করতে যাইনি। আমরা ওখানে ইতিহাসের মাস্টার কিংবা ছাত্র হতেও যাইনি। আমরা ওখানে গিয়েছি এ দেশের দুঃখী মানুষের জন্য কথা বলতে।’
বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “যখনই কোনো ইস্যু আসে, বাম দলের নেতা-নেত্রীরা সামনে এসে দাঁড়িয়ে যান।
তারপর আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে, মাঠ গরম হয়, কিছু মানুষের জীবন যায়, কিছু মানুষ আহত হয়। আর কিছু মানুষের চাকরি যায়। কিন্তু নেতা-নেত্রীরা রাতের আঁধারে তাঁদের ভাগটা পেয়ে যান, ভাগ পেয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট হয়ে যান। তখন গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তাঁরা ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ করেন।
এভাবে যুগ যুগ ধরে নেতা-নেত্রীর কপালের পরিবর্তন হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘রেমিট্যান্স-যোদ্ধা’ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের দাবির বিষয়ে ঠিকমতো কথা বলা হচ্ছে না। যেসব দেশে দূতাবাস প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না, সেখানে দূতাবাস থাকার দরকার নেই। দূতাবাসের কাজ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লালন-পালন করা নয়, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তাঁদের কাজ। তিনি প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকারকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।
৭ দিনের সফরে জাপানে জামায়াত আমির
এদিকে সাত দিনের সফরে জাপান গেছেন ডা. শফিকুর রহমান। সফর শেষে ৯ মে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
গতকাল রাত ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি জাপানের উদ্দেশে রওনা হন। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
জাপানে পৌঁছালে ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ সাবের আহমেদের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা, প্রবাসী ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী তাঁকে স্বাগত জানান।
সফরকালে জামায়াতের আমির বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা, বিভিন্ন সেমিনার এবং জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।