ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু স্থাপনা কার্যত ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর সংখ্যা ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বড় অংশজুড়েই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও পুরো স্থাপনাই ধ্বংস হয়ে বন্ধ করে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও সামরিক কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় মেরামতযোগ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের প্রধান লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত বিমান। এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন। এক কর্মকর্তা বলেন, তারা খুব হিসাব করে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং সীমিত সম্পদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আমাদের রাডার সিস্টেমই সবচেয়ে দামি এবং সীমিত সম্পদগুলোর একটি। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট তৃতীয় আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর মেরামতেই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী কুয়েতের আলি আল সেলিম বিমান ঘাঁটি, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির একটি রানওয়ে এবং উত্তর ইরাকের একটি সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রভান্ডারেও হামলা চালিয়েছে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ এবং ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত ব্যয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। যুদ্ধের শুরুর দিকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৯টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।