ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচার দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করা হবে, আর ভুল হলে তার বিরোধিতা করা হবে। তিনি বলেন, কারো চোখ-রাঙানিকে তাঁরা পরোয়া করেন না। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি শোনা যাচ্ছে, এখন মানুষ এর বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তব্যে তিনি দেশের চলমান রাজনীতি, বিভিন্ন সংকট এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিচার ও সংস্কারে সরকারের দৃশ্যমান অগ্রগতির আহবান জানান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের কৃষকরা বর্তমানে চরম সংকটে আছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ বাড়লেও উৎপাদিত ফসলের দাম সেই অনুপাতে বাড়ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে কৃষি উপকরণ কিনতে হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মাঠ পর্যায়ে কৃষক কম দামে ফসল বিক্রি করলেও রাজধানীতে সেই পণ্য কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করছেন।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারি সহায়তা জোরদারের দাবি জানান তিনি। তিস্তা নদী এলাকার দুর্ভোগ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই অঞ্চলের মানুষ চরম কষ্টে জীবন যাপন করছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট—দুই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। প্রতিবছর হাজার হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত, এখন তারা বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
’ দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে জনগণও এ উদ্যোগে পাশে থাকবে। আসন্ন বাজেট অধিবেশন সামনে রেখে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহবান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জনবল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালগুলোতে শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকছে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে অকার্যকর করে তুলছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাস বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না, এরা দলের নাম ভাঙানো দুর্বৃত্ত।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি একে ‘সিটমহল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ এলাকার প্রধান সমস্যার মধ্যে রয়েছে তীব্র যানজট, সরু রাস্তা, জলাবদ্ধতা, খাল দখল, ভাঙাচোরা সড়ক ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।