মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শিক্ষার্থীরা পাবে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস-ব্যাগ-জুতা, পাশে বসুন্ধরা গ্রুপ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে
আগামী জুলাই থেকে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে পাবে স্কুল ড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা। সরকারের মানবিক এবং বাস্তবসম্মত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের পাশে চায় সরকার। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপসহ ব্যবসায়ীরাও স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ এবং জুতা সরবরাহ করবে।

পাশাপাশি বিজিএমইএ-বিকেইমইএ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। 

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে সভাকক্ষে আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী জুলাই থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নির্বাচিত উপজেলায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় পরবর্তীতে সারা দেশে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

 

মতবিনিময়সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিকবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, বিটিএমইএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ার‌ম্যান সাফওয়ান সোবহানসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা সবাই রয়েছি, রয়েছেন আমাদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সবাই মিলে আমরা আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য এগিয়ে এসেছি। আগামী ১৮০ দিনের ভেতরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে প্রোগ্রামগুলো রয়েছে, প্রথমত হলো প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ব্যাগ এবং ড্রেস বিতরণ।

সেই জায়গায় উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসেছেন এবং আমরা তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। আগামী দিনে আরো সহযোগিতা করবেন সেই জন্য আজকের এই মতবিনিময়সভা।’ 

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অন্যরা যেন আগামী দিনে এগিয়ে আসে এই সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি, বিশেষ করে শিক্ষা খাতে সাহায্য করার জন্য সেই আহ্বান জানাচ্ছি আপনাদের।’

স্কুল ড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা কারা পাবে, সংখ্যা কত হবে—প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মোট সংখ্যা কত হবে, এখন বলতে পারব না। পাইলট প্রজেক্টে ইতিমধ্যে আমরা এক লাখের কমিটমেন্ট বিজিএমইএ থেকে পেয়েছি।

অন্যরা আমাদের জানাবেন। তারা তাদের করপোরেটে গিয়ে ডিসিশন নিয়ে জানাবেন। আশা করছি, মেজর পার্ট আমরা পেয়ে যেতে পারি। 

কোন ব্যবসায়ী কত সংখ্যা দেবেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো ইন ডিটেইলস এখনো তারা বলেননি। পরবর্তীতে তারা জানাবেন, তাদের রেস্পেক্টিভ করপোরেশনে গিয়ে বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে তারা জানাবেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অগ্রাধিকারের থাকবে কি না—প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য শুরু করা হচ্ছে। আমরা সারা দেশেই দেব। যে পরিমাণে আসবে তা বিতরণ করতে থাকব। প্রত্যেক উপজেলার শিক্ষার্থীর কাছে আমরা এটা পৌঁছে দেব।

প্রাথমিকভাবে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ আছে কি না—জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পরবর্তীতে ইবতেদায়ি মাদরাসা যুক্ত হবে। হাই স্কুল প্রজেক্ট আমরা পরে নেব, আগে প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে নিই।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা কালার (রং) সিলেক্ট করেছি, সেগুলো আপনারা পরে দেখতে পাবেন। সবাই সমন্বিতভাবে আমরা কালার সিলেক্ট করেছি।

শিক্ষার্থীরা কত জোড়া জামা পাবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমত এক সেট পাবে। পরেরটা পরে আমরা দেখব, আমাদের সক্ষমতা কত বাড়ে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ব্যাগ আসবে বিজিএমএ থেকে, জুতা এক জায়গা থেকে আসবে। প্রথমে এক লাখ জুতা-মোজা, প্যান্ট-শার্ট, কামিজ-সালোয়ার; এক লাখ প্রথম বিজিএমএ থেকে দিচ্ছে। বিজিএমএ থেকে ব্যাগ দিচ্ছে, আমাদের শিক্ষা, এলজিইডি ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকেও কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করব।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ ও জুতা বিতরণের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। সরকার যেহেতু বিনা মূল্যে বাচ্চাদের পড়ায়, বই বিতরণ করে, মিড-ডে মিল দেয় সেহেতু এই কর্মসূচিটিও সরকারের বাস্তবায়নের সক্ষমতা রয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির সঙ্গে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজ করতে চান বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে রাষ্ট্রকে যাতে ব্যবসায়ীরা, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এবং বিভিন্ন সংগঠন যাতে আলাদাভাবে না দেখেন।

ইতিমধ্যেই প্রত্যেক উপজেলার দুটি করে প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস ওয়ানে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। এই সংখ্যাটা বৃদ্ধি করা যায় কি না, সে জন্যই আজকের সভা।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ছেলে বাচ্চাদের একই ধরনের পোশাক হবে, একই ধরনের ব্যাগ হবে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের একই ধরনের ড্রেস হবে, একই ধরনের ব্যাগ হবে। এটার কোনো ব্যত্যয় হবে না, একই রকম হবে এবং জুতাও একই রকমের হবে।

এটি পাইলট প্রোগ্রাম হবে এবং জুলাইয়ে উদ্বোধন হবে বলে স্মরণ করিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী।

বিটিএমইএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বিজিএমইএর সভাপতি এখানে আছেন, তিনি যে ঘোষণা দেবেন আমরা বিটিএমইএ থেকে তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একইভাবে সহযোগিতা হাত বাড়াব।

বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ার‌ম্যান সাফওয়ান সোবহান বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণে সরকারের কর্মসূচির সঙ্গে আছে বসুন্ধরা গ্রুপ। কোমলমতি বাচ্চাদের জন্য এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে যতগুলো স্কুল ব্যাগ এবং জুতা লাগবে তা সরবরাহ করবে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ইলেকট্রিক স্কুল বাস দেওয়া হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com