মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিলকে ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার রেজল্যুশন গৃহীত

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্বীকৃতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বুধবার (২২ এপ্রিল) আলবেনির নিউ ইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটালে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ১৪ এপ্রিলকে ‘বাংলা নিই ইয়ার ডে’ হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজল্যুশন গৃহীত হয়েছে। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বাংলা নববর্ষ উদযাপনের রাজকীয় সমাপ্তি ঘটে।

স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটের অধিবেশনে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সিনেটর লুইস আর. সেপুলভেদা, নাথালিয়া ফার্নান্দেজ ও টবি অ্যান স্ট্যাভিস্কি।

 

সিনেটর টবি অ্যান স্ট্যাভিস্কি বলেন, ‘বহু সাংস্কৃতিক নিউ ইয়র্কে বাঙালিরা শিক্ষা, ব্যবসা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এই রেজল্যুশন সেই অবদানের স্বীকৃতি।’ তাঁর বক্তব্যের পর উপস্থিত সদস্যদের সমর্থনে অধিবেশন করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে প্রায় অর্ধ শতাধিক বিশিষ্ট প্রবাসী বাঙালি উপস্থিত ছিলেন, যারা ওই মুহূর্তকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।

রেজল্যুশনের মূল প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলকে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নিই ইয়ার ডে’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বাংলা নববর্ষকে একটি অসাম্প্রদায়িক ও বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যার শিকড় মুঘল আমলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নিহিত। সংগীত, নৃত্য, চারুকলা এবং লোকঐতিহ্যের মাধ্যমে এই উৎসব বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে উদযাপন করে থাকে। 

রেজল্যুশনে আরো উল্লেখ করা হয়, বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী—যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাষাগোষ্ঠী—নিউ ইয়র্কে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক উপস্থিতি তৈরি করেছে। উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত বাঙালিরা যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

 

বিশেষভাবে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের তিন দশকের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বাংলা উৎসব ও বইমেলার ঐতিহ্যও এতে স্বীকৃতি পেয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

রেজল্যুশনের সমাপনী অংশে গভর্নর ক্যাথি হোচুলের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে তিনি ১৪ এপ্রিলকে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ‘বাংলা নিই ইয়ার ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে রেজল্যুশনের একটি অনুলিপি গভর্নরের দপ্তরে যথাযথভাবে প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই রেজল্যুশনের কপি প্রেরণের তালিকায় মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা ও এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সভাপতির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এটি প্রমাণ করে যে, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে তাঁর অবদান নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 

রেজল্যুশন পাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১টা থেকে শুরু হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপসের নেতৃত্বে রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সিনেটর টবি অ্যান স্ট্যাভিস্কি। তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং মুক্তধারা ফাউন্ডেশন অনন্য ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সহসভাপতি কল্লোল বসু, সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল লিটন এবং সংগীত পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপস।

সংগঠনের সভাপতি বিশ্বজিত সাহা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে আমরা প্রবাসী বাঙালিদের গণ্ডি ছাড়িয়ে আমেরিকার মূলধারার সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

সাংস্কৃতিক পর্বে শিশুশিল্পী ভাষা সাহার নৃত্য ও দুর্গা ক্ষত্রিয়ের সংগীত ছিল অনন্য পরিবেশনা। অন্যদিকে বাউল শিল্পী এমডি শাহীন হোসেনের লোকসংগীত দর্শকদের মুগ্ধ করে। মহিতোষ তাপসের সংগীত পরিচালনায় পাঁচটি বিশেষ গান পরিবেশিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজন পুরো অনুষ্ঠানকে উৎসবমুখর করে তোলে। সম্মিলিত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্বের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেট আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা নেতৃত্ব দেন। এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড ব্যানারে বাংলা নববর্ষ উদযাপন ১১ ও ১২ এপ্রিল নিউ ইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ার ও জ্যাকসন হাইটসে শুরু হয়ে ২২ এপ্রিল আলবেনির ক্যাপিটাল হিলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়।

এই রেজল্যুশন গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ এখন নিউ ইয়র্কে একটি আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে গেল—যা প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাঙালি কমিউনিটির জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com