এক দিনের ব্যবধানে দেশে লোডশেডিং বেড়েছে আরও ৬৬৭ মেগাওয়াট। ২১ এপ্রিল মধ্যরাতে (রাত ১টা) দেশে ১,৯৪৩ মেগাওয়াটের লোডশেডিং ছিল। এর এক দিন বাদেই গতকাল দুপুর ১২টায় এ মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬ শ মেগাওয়াটের বেশি (২৬১০) বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়। এদিন মোট চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট আর সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সংশ্লিষ্টরা জানান, গরমের তীব্রতায় এমনিতেই বিদ্যুতের চাহিদা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানিসংকট পরিস্থিতিকে সংকটময় করে তুলেছে। সর্বশেষ গতকাল ভারতীয় কোম্পানি আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এতে লোডশেডিং আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঠিক হতে তিন-চার দিন সময় লাগবে। এ সময় লোডশেডিং কিছুটা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পিডিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গতকাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিটের বিয়ারিং থেকে সতর্ক সংকেত পাওয়া যায়। কেন্দ্রটির প্রকৌশলী এই শব্দ শুনে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ করে দেন।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যে গতকাল মধ্যরাত ১টার দিকেও আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে ১১০৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পরে একটি ইউনিটের কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমে তা ৭৬৪ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আদানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে-এ ত্রুটি ঠিক করে উৎপাদনে ফিরতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। ফলে এই কয়দিন লোডশেডিং কিছুটা বাড়তে পারে। তবে আপাতত তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে পিডিবি। এতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে। পিডিবি সূত্র বলছে, কিছুদিন ধরে গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির কেন্দ্রটি। একটি ইউনিট বন্ধের পর উৎপাদন কমে এখন ৭৫০ থেকে ৭৭০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। গরমের কারণে এবার এরই মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও সব মিলিয়ে উৎপাদন করা যাচ্ছে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু বর্তমানে এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ আছে এবং নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কম লোডে চলছে।