কলমাকান্দা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কলমাকান্দা-বরুয়াকোনা সড়কের চাঁনপুর মোড় থেকে সাবরেজিস্টার কার্যালয় পর্যন্ত মাত্র ১৫০ গজ অংশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জলাবদ্ধতা এখন চরম জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সামান্য এই অংশে পানি জমে থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এই অল্প অংশজুড়ে বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় ছিটকে পড়া পানি পথচারীদের গায়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও কাদা ও পানির কারণে স্বাভাবিক হাঁটাচলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, রিকশা, সিএনজি, বাস ও ট্রাক চলাচল করে। হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ ও থানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের একমাত্র সহজ পথ হওয়ায় এটি এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্যের কেন্দ্রবিন্দু। অথচ দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ১৫০ গজ অংশের জলাবদ্ধতার কারণে পুরো সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

 

 

 

তাদের অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি সংস্কার করার পর থেকেই চাঁনপুর মোড় থেকে সাবরেজিস্টার কার্যালয় পর্যন্ত অংশে পানি জমে থাকার প্রবণতা শুরু হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বারবার অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অল্প কিছু গজের এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা পুরো এলাকার জীবনযাত্রাকে স্থবির করে তুলেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, তখন ওই অংশে যানবাহন প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

 

 

কলমাকান্দা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি এম. আলমগীর তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে এলজিইডির সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।

 

 

এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সমস্যাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সড়কটির জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

 

এলাকাবাসী আমিনুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, মাত্র ১৫০ গজ সড়কের এই দুর্ভোগ পুরো এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

 

 

 

 

স্থানদের দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও সড়ক সংস্কারের মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার অবসান ঘটানো না হলে জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।