‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ ও ‘নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল-২০২৬’ শীর্ষক পৃথক দুটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নিয়োগ বিলে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অবাধ্যতায় সরকারি কর্মচারীদের সরাসরি বরখাস্তের বিধান রাখা হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গতকাল কোনো আপত্তি না থাকায় মাত্র ১৫ মিনিটেই বিল দুটি পাস হয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বিল দুটি উত্থাপন করেন। এর মাধ্যমে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইনি ভিত্তি পেল। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই বিল দুটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে। বিল দুটির মধ্যে মাত্র ৪ মিনিটে কণ্ঠভোটে পাস হয় ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন ও স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল-২০২৬’। এই বিলের বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সব ক্যাডার ও ক্যাডারবহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর যেসব পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়, সেখানেও একই বয়সসীমা কার্যকর হবে। তবে অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা এর আগে ৩২ বছরের বেশি (যেমন : ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেই ক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিদ্যমান বিধিমালা অপরিবর্তিত থাকবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করা এ-সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি রূপ দিতেই এই নতুন বিল আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, এর আগে অধ্যাদেশ জারির ফলে কিছু কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু বিশেষায়িত পদে উচ্চতর বয়সসীমা কমে গিয়েছিল। বর্তমান বিলের মাধ্যমে সেই অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং ৩২ বছরের বেশি বয়সসীমা নির্ধারণ করা পদগুলোর বিদ্যমান নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল ১১ মিনিটে পাস : ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’-এর অপরাধের চাকরি থেকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরের কঠোর দণ্ডের বিধান রেখে মাত্র ১১ মিনিটে পাস হয়েছে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, আনুগত্য প্রতিষ্ঠা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে এই আইনটি আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে জারি করা দুটি অধ্যাদেশকে রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি কাঠামো দেওয়া হলো। বিলে মূল আইনের ধারা ৩৭-এর পর ‘৩৭ক’ নামে একটি নতুন ধারা সন্নিবেশ করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেন বা সরকারের কোনো পরিপত্র/নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা দেন; যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে সমবেতভাবে কর্মে অনুপস্থিত থাকেন বা কাজ থেকে বিরত থাকেন; অন্য কোনো কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা প্রদান করেন; তবে তা ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে’।
বিলে এই ধরনের অসদাচরণের জন্য তিনটি প্রধান দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে, নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ; বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং চাকরি হতে বরখাস্ত। তবে শৃঙ্খলার স্বার্থে এই আইনের অধীনে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে, অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি থাকলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্ত কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে (বিশেষ প্রয়োজনে আরও সাত দিন বাড়ানো যাবে)। তদন্ত কমিটি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়, তবে একে সদস্যদের ‘অদক্ষতা’ হিসেবে গণ্য করা হবে।








