মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ সপ্তাহে ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী ১৩ হাজারের বেশি মিশন পরিচালনা করেছে এবং ১২ হাজার ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
এদিকে কাউন্সিল ফর আরব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের (সিএবিইউ) পরিচালক ক্রিস ডয়েল আল জাজিরাকে বলেছেন, “এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো ইরানের মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনাটি ‘ইরানের মর্যাদার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু এটাই দেখাচ্ছে, দেশটি বিশ্বের পরাশক্তির মোকাবেলা করছে এবং অন্তত প্রতিসম ও অপ্রতিসম উভয়ভাবেই তাদের একটি প্রতিযোগিতা দিচ্ছে। যদি আমরা পাঁচ-ছয় সপ্তাহ আগে ফিরে যাই তাহলে দেখব, যুদ্ধটা এক দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
১৬০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান : ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা এলহামি জানিয়েছেন, ইরানি ইউনিটগুলো সফলভাবে শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ১৬০টিরও বেশি ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। ভূপাতিত করা ড্রোনের মধ্যে এমকিউ-৯, হার্মিস ও লুকাস মডেলের ড্রোনও রয়েছে। এলহামি দাবি করেন, এই ব্যবস্থা আক্রমণকারীদের ‘কাল্পনিক প্রোপাগান্ডা’ ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো মূল্যে ইরানের আকাশ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা : গতকাল শনিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা। ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ভ্যালিওল্লাহ হায়াতি জানিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী মাহশাহর বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। তাঁর তথ্য মতে, শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী আহভাজের পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পর ১০টা ৪৭ মিনিটে মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আরো তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এ ছাড়া সকাল ১১টার দিকে খোররামশাহরের শলামচেহ সীমান্ত বাণিজ্য টার্মিনালে হামলা চালানো হয় এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো এরপর আবু আলী পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। পরে তারা বন্দর-ই-ইমাম খোমেনি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আংশিক ক্ষতি করে।
সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে ইরান নয়, ইসরায়েল হামলা করেছে : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলার সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘কোনোভাবেই কোনো সম্পর্ক নেই’, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ‘জায়নবাদী শত্রু’ ইসরায়েলের যে কৌশল, তাতে এটি নিশ্চিতভাবে তারাই ঘটিয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোকে এ অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়েছে।
আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান : ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের একজন প্রতিনিধি যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত কিছু অংশের ছবি পেয়েছেন। তাসনিম নিউজের সেনাবিষয়ক প্রতিবেদক মনে করছেন, ওই যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত অংশের ছবিতে মাত্র একটি ইঞ্জিনের ধোঁয়া নির্গমন পথ (এক্সজস্ট) দেখা গেছে। এর ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি একটি এফ-১৬ অথবা এফ-৩৫ হতে পারে। তবে এটি এফ-১৬ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
হরমুজ দিয়ে মানবিক ত্রাণ পরিবহনের অনুমতি ইরানের : তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার অনুমতি দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুমোদনটি বিশেষভাবে ইরানের বন্দরগামী অথবা ওমান সাগরে অবস্থিত জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে : ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শনিবার দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সংস্থা এক্সের মাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবেশের প্রমাণস্বরূপ দুটি নথি রয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, তেহরান ইসরায়েল, সেই সঙ্গে জর্দান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনকারী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। সূত্র : আল জাজিরা, এপি, মিডল ইস্ট আই, আনাদোলু