গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে অধ্যাদেশগুলোর যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন উত্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে অধ্যাদেশগুলোর যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন উত্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে। সেই হিসাবে ওই ১৬টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো অধ্যাদেশগুলোর আলোকে বিল উত্থাপন ও পাস না হলে এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তামাদির তালিকায় যাওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ১২টি অধ্যাদেশে জামায়াতের তিন সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় ওই সংসদ সদস্যরা ১৫টি বিলের ওপর নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।
ওই প্রতিবেদনে চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ-২০২৪, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।
সংশোধিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা অধ্যাদেশগুলো হচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন)-২০২৫, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যাবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মানবপাচার ও
অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ দমন অধ্যাদেশ-২০২৬, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।
রুমিন ফারহানা ও হানজালার অভিযোগ, তদন্ত এবং বিচার দাবি : গতকালের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, “দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমি গত ২৩ মার্চ আপনার (স্পিকার) সহধর্মিণীর জানাজায় এসেছিলাম এবং উপস্থিত হয়েছিলাম। দক্ষিণ প্লাজা থেকে যখন আমি ভেতরে ঢুকব, একদম কাছাকাছি, পেছন থেকে কেউ একজন আমাকে সম্বোধন করছিল, ‘ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে।’”
তিনি আরো বলেন, ‘একটু পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম যে, এই বিষয়ে খুব লেখালেখি এবং এই ভিডিওটা নিয়ে খুব আলোচনা চলছে। জাতীয় সংসদের একজন সদস্যকে সংসদের সামনে জঙ্গি বলে সম্বোধন করায় এই সংসদের মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
এমপি হানজালা স্পিকারকে অনুরোধ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসকে দিয়ে সিটিটিভির ফুটেজ দেখে কারা এই কাজটি করেছে তা বের করতে।
এ পর্যায়ে ফ্লোর নিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার ইমিডিয়েট আগে আমার যে সহকর্মী সংসদে বললেন কথাটি, এটি দুঃখজনক নিঃসন্দেহে। কিন্তু স্পিকার, আমি আপনার দৃষ্টিতে আরেকটি খবর আনতে চাই। আজকে (একটি ইংরেজি দৈনিকের নাম উল্লেখ করে) খবর প্রকাশিত হয়েছে, এই সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরো একজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে এই সংসদে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য যে কদাকার-কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছেন, যে কুৎসিত ভাষায় তাঁরা বক্তব্য দিয়েছেন, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি আপনার কাছে এ ব্যাপারে বিচার চাইছি। আমি বিষয়টি সংসদে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি (স্পিকার) বিষয়টিকে দেখবেন।’
এ সময় স্পিকার বলেন, ‘এটা অবশ্যই অত্যান্ত দুঃখজনক। আমি অনুরোধ জানাব, বিশেষ অধিকার প্রশ্নে আপনি এ ব্যাপারে একটি নোটিশ দেন। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।’