সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বেইলি রোডে বাহারি ইফতারি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

রমজান এলে রাজধানীর বেইলি রোড বদলে যায় অন্য এক রঙে। সারি সারি দোকানের ঝলমলে আলোকসজ্জা, হাঁড়ি-পাতিল থেকে ভেসে আসা মসলার গন্ধ, আর মানুষের কোলাহলে জমে ওঠে ইফতারির বাজার। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার থেকে আধুনিক ফাস্টফুড– সব মিলিয়ে বেইলি রোডের ইফতারির বাজার হয়ে ওঠে যেন এক বৈচিত্র্যময় উৎসব। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, এখানকার ইফতারির দাম সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে।

গতকাল বিকেলে বেইলি রোডের স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়– চিকেন বল, নাগা শিঙাড়া, ফ্রায়েড চিকেন, মালাই বটি, হরিয়ালি কাবাব, কলিজা ভুনা, পনির পরোটা, ছোলা ভুনা, হালিম, তেহারি, কাচ্চি বিরিয়ানি, শাহি ফিরনি, জাফরানি জিলাপিসহ নানা পদের মুখরোচক খাবারে সাজানো স্টল। কোথাও গুড়ের জিলাপি, কোথাও জাফরানি শরবত বা বোরহানি। খাবারের দামের পরিসরও বেশ ব্যতিক্রম– ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নানা পদের ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।

বেইলি রোডের প্রথাগত ক্যাপিটাল ইফতারির বাজারে নাগা শিঙাড়া ১৫ টাকা, চিকেন বল ৫০ টাকা, চিকেন রোল ৩০ টাকা, ডোরি ফিশ ৩০ টাকা, ফ্রায়েড চিকেন ৮০ টাকা, চিকেন সমুচা ৩০ টাকা, স্কুইড ফ্রাই ২০ টাকা, ভেজিটেবল পাকোড়া ৩০ টাকা, চিকেন বিজ বল ৫০ টাকা, থাই চিকেন ফ্রাই ৮০ টাকা, জাফরানি শরবত (বড়) ১২০ টাকা, চিকেন শর্মা ১২০ টাকা, নার্গিস কোপ্তা ৬০ টাকা, খাজা ২০ টাকা, দই বড়া (৪ পিস) ২০০ টাকা, গুড়ের জিলাপি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গেই মিক্সড সালাদ প্রতি গ্রাম ৯৯ পয়সা।

বেইলি রোডের বিখ্যাত দোকানগুলোর মধ্যে নবাবী ভোজ, কাচারী বাড়ি, ফখরুদ্দিন বিরিয়ানি বাহারি ইফতারি তৈরি করেছে। এসব দোকানে হালিম, কাবাব, দই বড়াও বিক্রি হচ্ছে। নবাবী ভোজে ছোলা ভুনা ৪১০ টাকা, শাহি হালিম ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, দই বড়া পিস ৪৫০, চিকেন কাঠি কাবাব ২০০ টাকা। কাচারী বাড়িতে মোরগ পোলাও ২৮০ টাকা, গরুর তেহারি ৩৫০ টাকা, খাসির রেজালা (হাফ কেজি) ১ হাজার ২০০ টাকা, এক কেজি ২ হাজার ৪০০ টাকা, গরুর লাল ভুনা ১ হাজার ৬০০ টাকা, কালা ভুনা ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঘি পরোটা ১০০ টাকা, আলু পরোটা ৮০ টাকা, লেমন মিন্ট ২২০ টাকা ও মহব্বত শরবত বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।

এ ওয়ান ফুডে কিমা পরোটা ১৫০ টাকা, ওয়েস্টার কাবাব ৮০ টাকা, ভেজিটেবল কাটলেট ৫০ টাকা, চিকেন অন্থন ৪০ টাকা, পেঁয়াজু-বেগুনি ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দই বড়া ১৬০-২০০ টাকা, ফালুদা ৮০ টাকা, হালিম ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাওয়া যায়।

বেইলি রোডে শুধু পুরান ঢাকার ঐতিহ্য নয়, নতুন ও আধুনিক হোটেল-রেস্টুরেন্টের স্টলও ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর মধ্যে রয়েছে– সিক্রেট রেসিপি মাঞ্চ স্টেশন, পিঠাঘর, থার্টি থ্রি, বার্গার এক্সপ্রেস, এল তার্কিটো, খানাস, পিজ্জা মাস্তান, স্যাটিএট, মেডশেফ, বিএফসি, গ্রিন লাউঞ্জ প্রভৃতি। তরুণদের কাছে এসব রেস্টুরেন্ট বেশি আকর্ষণীয়।
ইফতারি আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের হালিম, চিকেন কাবাব, ফালুদা, জাফরানি জিলাপি, ক্রিম রোল, চিকেন রোল, ফ্রায়েড চিকেন, বার্গার, পিৎজা, ঘি-ভাজা পরোটা বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ক্ষীর কুলি, রস পাকনসহ ঐতিহ্যবাহী পিঠাও মিলছে। প্রতিটি দোকানই নিজেদের আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।
এসব স্টলে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতাও প্রাণবন্ত। শান্তিনগরের আজিজ রাজু তাঁর পরিবার নিয়ে ইফতার করতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চারজন– আমি, স্ত্রী ও দুই সন্তান। নিরিবিলি পরিবেশ। খাবারের মানও ভালো।’

তবে দামের কারণে অনেক সাধারণ পরিবার এখানে বেশি কিনতে পারছে না। ফুডপ্যান্ডার ডেলিভারিম্যান আনিসুর বলেন, ‘যাদের পয়সা আছে, তারা এসব দামি খাবার খায়। আমরা রাস্তা থেকে ছোলা, চপ, বেগুনি কিনেই ইফতারি করি।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com