মাও ৎসে-তুং (বা মাও সেতুং) ছিলেন একজন চীনা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী, মার্কসবাদী তাত্ত্বিক এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা [১.১.১, ১.১.২]। তিনি ১৯৪৯ সালে চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৭৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশটির প্রধান নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন [১.২.২]।
তার জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন: তিনি ১৮৯৩ সালের ২৬শে ডিসেম্বর চীনের হুনান প্রদেশের একটি সচ্ছল কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন [১.৩.২, ১.৩.৬]। শৈশব থেকেই তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি পড়াশোনায় আগ্রহী ছিলেন এবং ১৯১১ সালে চিং রাজবংশ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন [১.৩.৮, ১.৫.৯]।
বিপ্লবী নেতৃত্ব: ১৯২১ সালে তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আবির্ভূত হন [১.৪.৩]। পরবর্তীতে তিনি চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের (লং মার্চ) মাধ্যমে ১৯৪৯ সালে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করেন [১.১.৮, ১.৪.৫]।
মাওবাদ: তার রাজনৈতিক ও সামরিক তত্ত্ব ‘মাওবাদ’ নামে পরিচিত, যা মার্কসবাদ-লেনিনবাদের একটি সংস্করণ [১.৪.১, ১.৫.৮]। এটি প্রাক-শিল্প ও কৃষিভিত্তিক সমাজে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দেয় [১.২.৩, ১.৪.২]।
উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ:
শিল্পায়ন: ১৯৫০-এর দশকে সোভিয়েত ধাঁচে ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’র মাধ্যমে চীনের আধুনিক শিল্পায়নের ভিত্তি স্থাপন করেন [১.৪.৮]।
গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড: ১৯৫৮-১৯৬২ সালে কৃষিকে সমবায়ভুক্ত করা এবং দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে এটি শুরু হয়, যদিও এটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের জন্ম দিয়েছিল [১.৫.২, ১.৫.৫]।
সাংস্কৃতিক বিপ্লব: ১৯৬৬ সালে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করতে এবং সমাজতন্ত্রের শুদ্ধিকরণ ঘটাতে তিনি এই বিতর্কিত আন্দোলনের সূচনা করেন, যা ১৯৭৬ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলে [১.৪.৪, ১.৪.৬]।
মৃত্যু: তিনি দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১৯৭৬ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর ৮২ বছর বয়সে বেইজিংয়ে মৃত্যুবরণ করেন [১.৪.৬, ১.৫.৬]।
আধুনিক চীনের রূপকার হিসেবে মাও সে তুং আজও চীনের জনগণের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র, যদিও তার বিভিন্ন নীতি ও সামাজিক আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক রয়েছে [১.১.৬, ১.৫.২]। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি উইকিপিডিয়ার মাও ৎসে-তুং পাতাটি দেখতে পারেন।