ময়মনসিংহের নান্দাইলের পল্লীতে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে আবুল কালাম (৩৫) নামের এক সিএনজিচালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশীরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে আরো পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের অরণ্যপাশা গ্রামে। নিহত কালাম মৃত আরজ আলীর ছেলে।
পুলিশ বলেছে, নিহত কালামের মাথা, দুই হাত, বুক ও পায়ে কোপানোর জখম ছিল। একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ পুরো ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। শত শত লোকজন ছুটে আসছেন।
রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির পাশেই সড়কের ওপর পড়ে রয়েছে। যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ঘিরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা পাশেই রয়েছে।
নিহত কালামের ভাতিজি শিমু আক্তার (১৮) জানান, তাঁর চাচা একজন সিএনজিচালক। পাশের মৃত হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে নিজের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দাঁড় করিয়ে দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে প্রবেশ করেন।
ওই সময় হাবিবের ছেলে আল-আমীন ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা কালামের কাছে গিয়ে জানতে চায় কেন প্রতিদিন তাদের বাড়ির সামনে সিএনজিটি রাখে। এতে তাদের অসুবিধা হয়।
এসময় দুজনের মধ্যে তর্কের সৃষ্টি হলে আল-আমীন বসতঘর থেকে রামদা বের করে এনে আচমকা কালামকে কোপাতে থাকে। এ ঘটনা দেখে কালামের পাঁচ ভাই প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাদেরকে রামদা দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আল-আমীনের তিন ভাইসহ আরো বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে কোপাতে থাকে।
কালাম মাটিতে পড়ে গেলে সেখানে আল-আমীন, তার ভাই ও স্বজনরা মিলে উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। পরে আহত অবস্থায় নিহত কালামের ভাই ফারুক, তাহের, ভাতিজা সুমন ও রুনাসহ পাঁচজনকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল থানার ওসি আল-আমীন জানান, অভিযুক্তদের ধরতে পুালিশ তৎপর রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।