সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মৃত বাবা–ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি কবরে দাফনের

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর উত্তরায় ছয়তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাবা–ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। আজ শুক্রবার রাতে বাড়ির পাশে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারেছ উদ্দিন (৪৭) ও শহীদুল ইসলাম (৪২)। ১৯৯৪ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যান তাঁরা। দুই ভাই পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরা–১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করেন। উত্তরা জমজম এলাকায় ফলের ব্যবসা করেন।

আজ সকালে উত্তরার বাসাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে হারেছ উদ্দিন, তাঁর ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) ও ভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা আক্তারের (১৫) মৃত্যু হয়। রাহাব উচ্চমাধ্যমিক ও রোদেলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আজ বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দড়িপাঁচাশি দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসা–সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হচ্ছে। মসজিদের সামনে বাঁশ কেটে রাখা হচ্ছে। মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল আজিজ বলেন, মাদ্রাসা ও মসজিদে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন হারেছ উদ্দিন। এমন ভালো একজন মানুষের মৃত্যু তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না।

মৃত হারেছ উদ্দিন ও তাঁর ছেলে রাহাব চৌধুরী (ডানে)
মৃত হারেছ উদ্দিন ও তাঁর ছেলে রাহাব চৌধুরী (ডানে)ছবি: সংগৃহীত

হারেছ উদ্দিনের দোকানে একসময় কাজ করতেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, হারেছ উদ্দিন দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এবং শহীদুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে–মেয়ে নিয়ে বাসাটিতে থাকতেন। হারেছের তিন বছরের ছেলে আরহান চৌধুরীকে নিয়ে স্ত্রী মিরপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শহীদুলের স্ত্রী সকালে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। শহীদুল দোকানে চলে গিয়েছেন। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের অন্য তিনজন মারা যান।

হারেছের বাড়ির সামনে গিয়ে মানুষের জটলা দেখা গেল। মৃত্যুর খবরে স্বজন ও এলাকাবাসী ছুটে এসেছেন। হারেছের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বেলা ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর পাই। অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনায় তিনজন মানুষ মারা গেল। সংসারে অভাবের কারণে দুই ভাতিজা খুব ছোটবেলা থেকে ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা করে জীবন চালাচ্ছিল। এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com