সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বেঁচে আছে ,মারা যায়নি ট্রেনের দরজায় আটকে যাওয়া সেই লোকটি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা থেকে নেত্রকোনাগামী আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে এক হকারের সঙ্গে অমানবিক আচরণ নিয়ে নিন্দার ঝড় বইছে। চলন্ত ট্রেনের দরজার বাইরে ঝুলে থাকা হকার আকুতি জানিয়েও ভেতরে ঢুকতে পারেননি। একপর্যায়ে ছিটকে পড়ে গেলেও ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছেন।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হকার শরিফ চলন্ত ট্রেনের দরজার বাইরে হ্যান্ডেল ধরে পাদানিতে কোনো মতে ঝুলে আছেন। তাঁর মাথায় কোমল পানীয় ভর্তি একটি গামলা। সে সময় ট্রেনের ভেতর থেকে রেলওয়ে স্টাফদের বলতে শোনা যায়, মালপত্র ফেলে দাও, না হলে ভেতরে আসতে পারবে না।

আতঙ্কিত হকার বারবার চিৎকার করে বলছিলেন, ‘স্যার, দরজাটা খোলেন। আমি পড়ে যাব। স্যার, ট্রেনটা কি একটু স্লো (গতি কমানো) করা যায় না?’

ভিডিওতে দেখা যায়, শরিফ যখন জীবন বাঁচাতে আকুতি জানাচ্ছিল, তখন তাঁকে সাহায্যের পরিবর্তে ভয় দেখানো হচ্ছিল মালপত্র ভর্তি গামলা ফেলে দেওয়ার জন্য। একপর্যায়ে ট্রেনের গতির মুখে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান এই তরুণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন। দুপুর আড়াইটার দিকে শ্রীপুর স্টেশন পার হয়ে ভাংগা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনটির গতি কিছুটা কমে যায়। এ সময় হকার শরিফ মাথায় ১০-১২টি পানির বোতলসহ একটি গামলা মাথায় নিয়ে লাফিয়ে ট্রেনের দরজার হ্যান্ডেলে ঝুলে পড়েন। কিন্তু দরজা লক থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

বুধবার সন্ধ্যায় ট্রেনটির স্টুয়ার্ড সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম জানান, ৩০-৪০ সেকেন্ডের মাঝেই পুরো ঘটনাটি ঘটে যায়। হকার ছেলেটি যেই দরজায় লাফিয়ে উঠেছিল, সেই দরজাটি লক করা ছিল। এর চাবি অন্য কর্মকর্তার কাছে ছিল। ছেলেটি যখন সাহায্য চাচ্ছিল তখন চাবি আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর ২০-২৫ সেকেন্ড পরেই ট্রেন থেকে পড়ে যায়। পরে তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক ট্রেন পরিচালক বলেন, একটু ধীরে চলায় ছেলেটি লাফিয়ে ট্রেনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। দরজার লক খুলে তাকে ভেতরে আনার চেষ্টা করছিলেন তারা। কিন্তু দরজা খোলার আগেই পড়ে যান তিনি।

হকার শরিফের বাবার নাম হান্নান মিয়া। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায়। কাজের সুবাদে কয়েক বছর ধরে গফরগাঁওয়ে থাকছেন। বুধবার দুপুরে হকার শরিফ সমকালকে বলেন, ‘আমি তো মরেই যেতাম! সবাই ফেসবুকে লিখেছে মারা গেছি, কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি। মাথায় ১২ থেকে ১৩টি সেলাই লেগেছে। আমি শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম।’ তিনি জানান, ট্রেনের গতি যখন বেড়ে যাচ্ছিল, সে বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু দায়িত্বরত স্টাফরা দরজা না খুলে তাকে ধমক দিচ্ছিলেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা রেলওয়েকর্মীদের আচরণের কঠোর সমালোচনা করছেন। অনেকেই বলছেন, ট্রেনের গার্ড বা স্টুয়ার্ড ইচ্ছা করলেই দরজা খুলে তরুণটির জীবন রক্ষা করতে পারতেন।

ময়মনসিংহের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, আহত হকার শরিফ গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পাশে স্থানীয় একজনের সান্নিধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁর ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। তাঁর সুস্থ হতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com