বিএনপির নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, খালেদা জিয়ার কর্মময় জীবনের ইতিহাসে দল-মত, পথ, জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। তার জানাজায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসতেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল স্পষ্ট। তার জানাজার সময় অনেক মানুষ বাসার ছাদে কিংবা টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে নামাজে অংশ নিয়েছেন- একজন মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে।
রোববার দুপুরে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি স্কুল মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ব্যক্তিজীবনে গভীর শোক ও কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনো নীতির সঙ্গে আপোষ করেননি। সন্তান হারানোর মতো বেদনা বুকে নিয়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে ছিলেন।
নারী শিক্ষায় তার অবদানের কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ১৯৯১ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। দেশের মানুষের কল্যাণে তার এই অবদান আজও স্মরণীয়।
অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সবাই দল-মত নির্বিশেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করি। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থতা এবং মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করি।
দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ খায়ের, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মণ্ডলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দুই সহস্রাধিক মানুষ।