সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নেত্রকোনার ঐতিহ্য বালিশ মিষ্টি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
জাম, রসগোল্লা পেয়ে শ্বশুর করলেন চটে নালিশ, আশা ছিল আনবে জামাই গয়ানাথের বালিশ।’ নেত্রকোনার ঐতিহ্যের ধারক বালিশ মিষ্টি নিয়ে এলাকায় এমন লোকজ ছড়া মানুষের মুখে মুখে। এই অঞ্চলে গায়েহলুদ, বিয়ে, জন্মদিন, মিলাদ, বিবাহবার্ষিকী, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নেওয়া, অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক কিংবা অফিস-আদালতের অনুষ্ঠানে এই মিষ্টি এক ধরনের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো জামাই তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বালিশ মিষ্টি না নিয়ে গেলে তা যেন রীতিবিরুদ্ধ হয়।

এই মিষ্টির টানে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক পর্যটক ছুটে আসেন এখানে। 

জানা যায়, বালিশ মিষ্টির উদ্ভাবক শ্রী গয়ানাথ ঘোষ। শহরের বারহাট্টা রোডের গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার নামের একটি মিষ্টির দোকান এ মিষ্টির প্রস্তুতকারক।

দোকানের স্বত্বাধিকারী খোকন মোদক জানান, গয়ানাথ ঘোষ নামের এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম এ মিষ্টি আবিষ্কার করেন।

গয়ানাথ ঘোষ ভারতে চলে যাওয়ার সময় খোকন মোদকের বাবা নিখিল মোদককে দোকানের মালিকানা দিয়ে যান। তখন থেকেই নিখিল মোদক গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার পরিচালনা করেন। বাবার মৃত্যুর পর বর্তমানে তিন ছেলে খোকন মোদক, বাবুল মোদক ও দিলীপ মোদক মিলে ওই দোকান পরিচালনা করছেন। 

খোকন মোদক জানান, বালিশ মিষ্টি এক বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়।

এর প্রধান উপাদান গাভির দুধ, ময়দা ও চিনি। এ মিষ্টির জন্য গোয়ালাদের কাছ থেকে গাভির খাঁটি দুধ সংগ্রহ করা হয়। তাই খেতে অন্য যেকোনো ধরনের মিষ্টির চেয়ে সুস্বাদু ও নরম। মিষ্টি খাওয়ার আগে এর ওপরে সুস্বাদু এক ধরনের ক্ষীরের প্রলেপ দেওয়া হয়। রসে টইটম্বুর ও তুলতুলে এই মিষ্টি কোলবালিশের আদলে বানানো হয় বলে এটাকে বালিশ মিষ্টি বলা হয়।
স্থানীয়ভাবে এই মিষ্টি ‘গয়ানাথের বালিশ’ মিষ্টি হিসেবেই পরিচিত। 

মিষ্টির কারিগররা জানান, গাভির খাঁটি দুধ ছাড়া বালিশ মিষ্টি তৈরি হলে এর প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া মিষ্টি মুখরোচক করতে তা তৈরির সময় বিশেষ কিছু কলাকৌশল প্রয়োগ করেন তাঁরা। তবে তাঁরা ব্যবসার স্বার্থে তা প্রকাশ করতে নারাজ। সাধারণ মিষ্টির চেয়ে আকারে ও স্বাদে আলাদা লালচে বাদামি ধরনের এ মিষ্টি দেখলে যে কারো জিবে জল আসে।

খোকন মোদক জানান, বর্তমানে সব কিছুরই খরচ বেড়েছে। তবু গুণগত মান বজায় রেখে সাধারণত তিন প্রকারের বালিশ মিষ্টি তৈরি করা হয়। ছোট, মাঝারি ও বড় বালিশ। ছোটটার দাম ৩০ টাকা, মাঝারিটা ১০০ ও বড়টার দাম ৩০০ টাকা। তবে অর্ডার অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রায় দুই কেজি ওজনের এক হাজার টাকা দামের বালিশ মিষ্টিও তৈরি করা হয়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com