মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে করছাড় দিচ্ছে সরকার

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) মাধ্যমে রাজধানীতে ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালু করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে বাস মালিকদেরও বৈদ্যুতিক বাস আমদানির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বেসরকারিভাবে আমদানির ক্ষেত্রে সরকার কর মওকুফ করার পরিকল্পনা নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে বাণিজ্যিক রিকন্ডিশন্ড বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা প্রাইম মুভার আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল পাঁচ বছর। গত ৩১ আগস্ট এক সভায় বাস মালিকদের চাপে তা বাড়িয়ে ১২ বছর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুরোনো মোটরযান আমদানি করলে বায়ুদূষণ এবং বর্জ্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস আমদানি করা যেতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সমকালকে বলেন, তারা পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্য বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে করছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে এ উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন বলেন, বৈদ্যুতিক বাসের দাম প্রায় ৩ কোটি টাকা। আয়ুষ্কাল তিন থেকে চার বছর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বৈদ্যুতিক বাস আমদানি করলে কর মওকুফের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরও ২ কোটি টাকা দাম হবে। তিনি বলেন, পুরোনো বাস আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানিকারক দুই দেশের পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া হবে। তাদের সংগঠন থেকে সুনির্দিষ্টভাবে জাপান ও ইউরোপের দেশ থেকে পুরোনো গাড়ি আমদানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর গাড়িকে এখনও বেশি সুবিধা দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেন বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক। তিনি বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিকর দূষণ সৃষ্টি করছে ডিজেলচালিত বাণিজ্যিক যানবাহন। চীন ও ভিয়েতনামের মতো অনেক দেশ বৈদ্যুতিক যানকে জাতীয় অগ্রাধিকারে নিয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। এ অর্থবছরের বাজেটে অবশেষে বৈদ্যুতিক যান ও ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার উৎপাদনে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা আগে শুধু জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির জন্য ছিল। তবে এ সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে এসেছে।

শামসুল হক আরও বলেন, সরকার নিজে কিছু বৈদ্যুতিক যান কিনলে বাজার পরিবর্তন হবে না। বেসরকারি খাত যেন গ্রিন মোবিলিটিতে (দূষণমুক্ত যানবাহনে) মুনাফা দেখতে পায়, সেজন্য উপযুক্ত নীতিমালা থাকা জরুরি। দেশে ডিজেলচালিত বাস আমদানিতে ১৫-৩৭ শতাংশ শুল্ক থাকলেও বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে শুল্ক ৫৮ শতাংশের বেশি, যা বড় বাধা। নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চলতি মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৮৬টি। নিহত হয়েছেন ৪৪১ জন এবং আহত হয়েছেন এক হাজার ১২৮ জন। গত সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ১৩ দশমিক ৯ জন। অক্টোবরে নিহত হয়েছেন গড়ে ১৪ দশমিক ৭ জন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার জন্য নিম্নমানের মোটরযানের আধিক্য অনেকাংশে দায়ী। তবে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যান যত বেশি চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে, ততই মঙ্গল। এজন্য বেসরকারিভাবে এসব বাস আমদানির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান সমকালকে বলেন, ১২ বছরের পুরোনো গাড়ির জীবনকাল প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকে। এমন গাড়ি কোনোভাবেই আমদানি করা ঠিক হবে না। পরিবেশের জন্য বৈদ্যুতিক বাস আমদানির উদ্যোগ অনেক ভালো। এজন্য সরকারকে অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বাস পরিচালনা করতে চায় মালিক সমিতি
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কেনা বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনা করতে চান মালিক সমিতির নেতারা। এজন্য তারা অন্তর্বর্তী সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিশ্বব্যাংকও বেসরকারি মালিকদের এসব বাস দিতে আগ্রহী। এজন্য বিশ্বব্যাংক গাড়ির মূল্যের ২৫ শতাংশ জামানত চেয়েছে। গাড়ি মেরামত করতে হবে মালিকদের। এরপর প্রতি কিলোমিটারের লভ্যাংশ বণ্টন করা হবে। ঋণ পরিশোধ হলে বাসের মালিকানা পাওয়া যাবে।
এম এ বাতেন বলেন, কীভাবে আমাদের বৈদ্যুতিক বাস দিতে পারে, এজন্য কাজ করছে বিশ্বব্যাংক। রাজধানীতে তিনটি চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিআরটিসি বা ডিটিসিএর পরিচালনার চেয়ে বেসরকারিভাবে এসব বাস ভালো চলবে। কারণ, তাদের জনবল নেই। বিআরটিসি এর আগে সবচেয়ে ভালো বাস আমদানির পরও পরিচালনা করতে পারেনি।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com