মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

‘ভুয়া’ ওষুধে সয়লাব মুন্সীগঞ্জ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
মুন্সীগঞ্জের সর্বত্র এখন ছড়িয়ে পড়েছে লাইসেন্স ও ড্রাগ রেজিস্ট্রেশন (ডিআর) নম্বরবিহীন বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ। নামে-বেনামে বিভিন্ন কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি, অসাধু চিকিৎসক এবং ফার্মেসির দোকানিদের মাধ্যমে এসব ওষুধ পৌঁছে যাচ্ছে রোগীদের হাতে। এ ছাড়া এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও বিক্রয় প্রতিনিধি ইনভয়েসবিহীন ভেজাল ওষুধ বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব ওষুধ সেবনে কোনো ফলাফল না পেয়ে ভুক্তভোগী রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।

 

একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, সাধারণ মানুষ কম শিক্ষিত। তারা প্রথমে যখন স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীর দোকানে যায়, তখন তাদের নিম্নমানের ভেজাল ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওসব ওষুধে যখন কাজ হয় না তখনই তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে ছুটে যায়। সেখানে যাওয়ার পর চিকিৎসককে ওষুধের পাতা দেখায় আর বলে অনেক টাকার ওষুধ খেয়েও রোগ ভালো হলো না।

তারা আরো জানায়, ওষুধ বিক্রির সময় প্রতিটি কম্পানি যদি ফার্মেসিকে একটি ইনভয়েস তালিকা দেয় তাহলে কম্পানিটি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত কি না তা সহজে বুঝতে পারবে একজন ক্রেতা। এ ছাড়া রেজিস্ট্রিকৃত সব ওষুধের তালিকা ঔষধ প্রশাসনের ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকে। 

চিকিৎসক ও ভুক্তভোগী রোগীদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে মুন্সীগঞ্জ শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মেসিগুলোতে সরাসরি এসব ওষুধ বিনা প্রেসক্রিপশনে বিক্রি করছেন দোকানিরা। বিভিন্ন ক্লিনিকে বসে চিকিৎসকরাও এসব ওষুধ রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে লিখছেন।

শুধু তা-ই নয়, রোগীর মুখে বর্ণনা শুনে ফার্মেসি দোকানিরা সরাসরি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ রোগীদের কাছে বিক্রি করছেন। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রস্তুতকারী ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানিরই বাংলাদেশে অনুমোদন নেই। ফার্মেসিগুলোতে দেদার বিক্রি হচ্ছে ইনভয়েসবিহীন ওষুধ। সেখানে নামে-বেনামে দেশি কম্পানির নানা ধরনের ওষুধের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন কম্পানির ত্বকের রং ফর্সা করার ক্রিম, চর্মরোগের নানা ধরনের সাবান ও যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সুতিং জেল, রেভিকাল ট্যাবলেট, বনবিয়ান ট্যাবলেট, ওমেগা-৩, ট্যাবলেট ম্যাগবিয়ান, ক্যাপসুল বায়োমেগা, ক্যাপসুল নোভাপ্লেক্স, রয়াল প্লাস, অভাসিড ক্যাপসুল, ভালিডো ক্যাপসুল, উনেক্স ক্যাপসুল, ক্যাপসুল লেগুম-৭৫০, জয়েন্ট গ্লু, এম-লিনা ও ড্যানজোলার সোপ, ক্যাপসুল রেটিনেক্স, ক্যাসুল এইস পাওয়ার ও ট্যাবলেট জিসিএম প্লাস।

 

নিম্নমানের ওষুধ বিক্রির কথা স্বীকার করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ফার্মেসির দোকানি জানান, চিকিৎসকরা ডিআর নম্বরবিহীন বিদেশি ওষুধ লিখে বলেই তাঁরা বিক্রি করেন। এ ছাড়া কম টাকায় ওষুধ কিনে বেশি মুনাফা লাভের আশায় তাঁরা ইনভয়েসবিহীন ওষুধ বিক্রি করছেন। ইনভয়েসবিহীন বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ সরবরাহে মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে জড়িত পাঁচ-ছয়জন বিক্রয় প্রতিনিধি। তাঁরা চিকিৎসকদের নানা আর্থিক সুবিধা দিয়ে এসব ওষুধ লিখতে অনুপ্রেরণা জোগানোর পাশাপাশি ফার্মেসিতে ওষুধ সরবরাহ করে থাকেন। এঁদের মধ্যে মিজান, রাফি, ইলিয়াস বিদেশি কম্পানির বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করেন। বসির, আলমগীর ও নাজির হোসেন নামের তিন ব্যক্তি চকবাজারসহ অন্যান্য স্থান থেকে আনা ইনভয়েসবিহীন ওষুধ জেলা সদরের ফার্মেসিগুলোতে সরবরাহ করেন।

ফার্মেসি দোকানি পরিচয়ে ওষুধ কেনার নাম করে রাফি, ইলিয়াসসহ কয়েকজনকে কল করলে তাঁরা জানান, কোন ওষুধ কী পরিমাণ লাগবে তা জানিয়ে অর্ডার করলে তাঁরা ওই সব ওষুধ দোকানে পৌঁছে দেবেন। ডিআর নম্বরবিহীন ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ, এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রয় প্রতিনিধি রাফি ও ইলিয়াস বলেন, বিদেশি এসব ওষুধ আমদানি করা। সরকারিভাবে এসব ওষুধ বিক্রির তাঁদের কোনো বৈধতা নেই। অন্যদিকে নাজির, আলমগীর ও বসির—এই তিনজনকে ইনভয়েসবিহীন ওষুধ কেনার কথা বলে ফোন করলে তাঁরাও আশ্বাস প্রদান করেন যে ফোনে অর্ডার দিলে ফার্মেসির নাম ও ঠিকানামতো তাঁরা ওষুধ পৌঁছে দেবেন।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সাইদ হোসেন বলেন, ‘অনেক রোগী আমাদের কাছে এসে বলে অনেক টাকার ওষুধ খেয়েও কোনো কাজ হয়নি। তাদের দেখানো ওষুধের পাতা দেখে বোঝা যায় যে তারা নিম্নমানের ওষুধ সেবনের কারণে রোগ সারেনি।’

জেলা ঔষধ প্রশাসনের কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ জেলায় লাইসেন্সকৃত ফার্মেসির সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৬০০। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত ২৪টি ফার্মেসিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক অবাধে বিক্রি ও ফিজিশিয়ানস স্যাম্পল বিক্রির কারণে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোট আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তা ছাড়া নকল ও ভেজাল ওষুধের অনিয়ম রোধে বিভিন্ন কম্পানির ১০০টি স্যাম্পল সংগ্রহ করে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছি।’

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com