১. ধনী ব্যক্তির আগে জান্নাতে প্রবেশ : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, একদিন আমি একদল নিঃস্ব মুহাজিরের সঙ্গে বসলাম। তাদের অবস্থা এতই শোচনীয় ছিল যে (পরিধেয় বস্ত্র খুবই ছোট হওয়ায়) পরস্পর পরস্পরের সতর আড়াল করে বসছিলেন। একজন পাঠক আমাদের কোরআন পড়ে শুনাচ্ছিলেন। এমন সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) এসে দাঁড়ালে পাঠক তাঁর পাঠ বন্ধ করলেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৪৬)
৩. নবীজি (সা.)-এর দারিদ্র্যের জীবন : জীবন যাপনের বিচারে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে দরিদ্র মানুষের সাদৃশ্য বেশি। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিবারবর্গ মদিনায় আসার পর থেকে একনাগাড়ে তিন দিন গমের রুটি পরিতৃপ্ত হয়ে খায়নি। আর এ অবস্থায় তাঁর ওফাত হয়ে যায়।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৫৪)
তিনি আরো বলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিবার এক দিনে দুই বেলা খাবার খেলে তার এক বেলা শুধু খেজুর খেয়ে কাটাতেন।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৫৫)
৪. দরিদ্র ব্যক্তিরা জীবিকা লাভের মাধ্যম : দরিদ্র ব্যক্তিরা নিজেরা সম্পদ থেকে বঞ্চিত হলেও তারা অন্যের জীবিকা লাভের মাধ্যম। আবু দারদা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘তোমরা দুর্বল লোকদের খোঁজ করে আমার কাছে নিয়ে এসো। কেননা তোমরা তোমাদের দুর্বল লোকদের অসিলায় জীবিকা ও সাহায্য লাভ করে থাকো।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২৫৯৪)
৫. দারিদ্র্য নবীপ্রেমের ভূষণ : আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) বলেন, একদিন এক ব্যক্তি নবী (সা.)-কে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কসম! আমি নিঃসন্দেহে আপনাকে ভালোবাসি। তিনি বললেন, তুমি যা বলছ, তা চিন্তা করে বলো। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি নিঃসন্দেহে আপনাকে ভালোবাসি। এরূপ সে তিনবার বলল। তিনি বললেন, যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো, তাহলে দারিদ্র্যের জন্য বর্ম প্রস্তুত রাখো। কেননা যে আমাকে ভালোবাসবে স্রোত তার শেষ প্রান্তের দিকে যাওয়ার চেয়েও বেশি দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য তার নিকট আগমন করবে।’
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩৫০)
আল্লাহ সবাইকে দুর্দিনে ধৈর্যধারণের তাওফিক দিন। আমিন।