মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শুভ মহালয়া আজ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে
সারা দেশে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পুরোদমে চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। বেশির ভাগ মণ্ডপে প্রতিমার কাঠামো তৈরি হয়ে গেছে। চলছে রংতুলির আঁচড় দেওয়ার কাজ। আজ রবিবার শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রাজারবাগ কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মিশনসহ রাজধানীর মন্দিরগুলোতে দুর্গাপূজার আয়োজনে প্রস্তুতি চলছে। রমনা কালীমন্দির প্রাঙ্গণেও চলছে একই আয়োজন।

সেখানে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। এখন শুরু হবে রং করার কাজ।রমনা কালীমন্দিরের শিল্পী রতন পাল জানান, প্রতিমা তৈরির সব কাজ প্রায় শেষের দিকে। এরপর রঙের কাজ শুরু হবে।
এরপর প্যান্ডেলের সাজসজ্জা করা হবে। রমনা কালীমন্দিরের কর্মকর্তারা জানান, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির কর্তৃপক্ষ সব প্রস্তুতি নিয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আজ ভোর সাড়ে ৫টায় মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের শুরুর তিথি এই মহালয়া।

দুর্গোৎসবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের একটি মহালয়া। অন্য দুটি হচ্ছে বোধন ও সন্ধিপূজা।এ উপলক্ষে সারা দেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। চণ্ডীপাঠ ছাড়াও মঙ্গলঘট স্থাপন এবং ঢাক-কাঁসর ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবীকে মর্ত্যে আহ্বান জানাবেন ভক্তরা। অনেক ভক্ত মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদগতি প্রার্থনা করবেন।রমনা কালীমন্দিরের পুরোহিত হরিচাঁদ চক্রবর্তী বলেন, ভোর সাড়ে ৫টায় মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর মর্ত্যে আগমন ঘটবে। ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমী ও পয়লা অক্টোবর মহানবমী পূজা হবে। ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর পূজা শেষে মা দুর্গা আবারও কৈলাসে ফিরে যাবেন। ওই দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য মতে, গত বছর সারা দেশে ৩২ হাজার ৬৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়। এবার কতটিতে পূজা হচ্ছে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে সেই সংখ্যা প্রায় এক হাজার বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। রাজধানীতে ২৫২টি মণ্ডপে পূজা হবে। পূজা সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। জেলা প্রশাসনগুলো প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা এবং প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এর পরও দুর্গাপূজা সামনে রেখে দেশের ২৯ জেলাকে ‘ঝুঁকিপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নাগরিক সমাজকে নিয়ে নবগঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘সম্প্রীতি যাত্রা’। মানচিত্রে ২৯টি ‘ঝুঁকিপ্রবণ’ জেলার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, যশোর, চাঁদপুর ও নোয়াখালী—এই পাঁচটি জেলা ‘উচ্চঝুঁকিতে’ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সম্প্রীতি যাত্রার সংগঠক লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল-মামদূহ কালের কণ্ঠকে বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরও এ ক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি।

তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ প্রাক-পূজা ও পূজা চলাকালে এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়ের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর কালের কণ্ঠকে বলেন, বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার পাশাপাশি পূজার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ চলছে। এ নিয়ে এরই মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com