জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিচার বিভাগ সংস্কারে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ যে ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা করেছিলেন, এক বছরে তার প্রায় শতভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। রোডম্যাপের কী কী বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
গত বছরের ১০ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভের মুখে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি পদত্যাগ করেন।
আসামিকে আইনি সহায়তা : জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০২৪-এর ২(১)(থ) অনুসারে কোনো বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আদালতে আসামি আইনজীবী নিয়োগ দিতে না পারলে ওই আসামিকে অসমর্থ ব্যক্তি গণ্য করে লিগ্যাল এইডের আইনজীবী প্যানেল থেকে তাঁর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা : ২০০৭ সালের বিধিমালা রহিত করে গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়।
ফেলোশিপ চালু : বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সুপ্রিম কোর্ট ‘প্রধান বিচারপতি ফেলোশিপ নীতিমালা’র একটি খসড়া প্রস্তুত করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। ফেলোশিপ চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি : দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিসহ বিচারিক সেবায় বিচারপ্রার্থীদের অভিগম্যতা বাড়াতে অধস্তন আদালতের বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার অধীনে ‘বিচারিক পদ সৃজন’ গঠিত কমিটি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ে ১৯১টি পদসহ মোট ২৩২টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল : সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত ও অপসারণসংক্রান্ত সাংবিধানিক ফোরাম সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর রাষ্ট্রপতি দুজন বিচারপতিকে অপসারণ করেছেন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংস্কার, বিচারকদের সুদমুক্ত গাড়ি সুবিধা, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।