মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ডা. নাফিসার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা তদন্তে সিআইডি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গতকাল মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেন। ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গতকাল মামলার আবেদনটি করেন ডা. নাফিসার আত্মীয় মশিউর রহমান শাহ। পরে আদালত তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

গত ৪ জুন মারা যান ডা. নাফিসা। তাঁর স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং ডা. আব্দুর রশীদের জামাতা ইয়ার্কির সম্পাদক সিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন এই মামলার আসামি। অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু শাহিন জানান, সিআইডির অতিরিক্তি এসপি বা তাঁর চেয়ে উঁচু পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন বিচারক।
মামলার আবেদনে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্ক থেকে সহপাঠী ডা. রহমত রশীদকে বিয়ে করেন ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা। তাদের দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই নাফিসা পারিবারিকভাবে ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের’ শিকার হচ্ছিলেন। এর ফলে তিনি তীব্র বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও আসামিরা তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অবহেলা করেন। মৃত্যুর আগে ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে তিনি পোস্ট করেছিলেন।
মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, ২ জুন থেকে টানা তিন দিন ডা. নাফিসাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে খাবার দেওয়া হয়নি এবং দুই বছর বয়সী সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। ৪ জুন খবর পেয়ে তাঁর মা ধানমন্ডির ‘বসতী গ্রিন’ আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে মেয়েকে তালাবদ্ধ দেখে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে কক্ষ থেকে বের হয়ে নাফিসা তাঁর মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মা, আমি ভাত খাব।’ এরপরই তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে দ্রুত কাছের কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং বিলম্বের পর বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নাফিসার মৃত্যুর পর ঘটনাটি ‘ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে’ ময়নাতদন্ত ছাড়াই একটি মৃত্যুসনদ সংগ্রহ এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, ‘আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং নিহতের বাবা-মা ধর্মভীরু ও অসহায় হওয়ায় শুরুতে আইনি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়েছে।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com