মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে আহত নারী, চারদিন পর মৃত্যু

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে একটি বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন সোহেলী ইসলাম (৪২)। সেখান থেকে ঢাকার ধানমন্ডির বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরা দুই ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তিনি। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ছিনতাইকারী সোহেলির হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। একপর্যায়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান সোহেলি। এতে তার মাথায় আঘাত পেলে কান দিয়ে রক্তপড়া শুরু হয়। তার সঙ্গে থাকা মেয়ের চিৎকারে স্থানীয়রা সোহেলিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চারদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে তার মরদেহ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরিপাড়া এলাকায় নানাবাড়িতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে তার দাফন হয়।

গত রোববার সকাল সোয়া ৬টায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

সোহেলীর ফুপাতো ভাই সরওয়ার পারভেজ সবুজ জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোহেলি ও তার মেয়ে সোমাইয়া আলম তার বাড়িতে এসেছিলেন। রোববার ঢাকার বাসায় ফেরার সময় সোহেলি ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে আহত হন তিনি। চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় তার।

সোহেলীর চাচা কাজল বলেন, সোহেলি একজন সংগ্রামী নারী ছিলেন। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিকেল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাকে হারিয়ে এখন মেয়েটির (সোমাইয়া) ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় ছুটে যান। তবে সেখানে নিকটাত্মীয় কেউ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা করা সম্ভব হয়নি। এখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ছিনতাইকারীর হাতে নারী আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। কেউ এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর খবর দেখার পর পুলিশ খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে কোথায় ঘটনাটি ঘটেছে, কীভাবে ঘটেছে তা জানার চেষ্টা চলছে। মৃতের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

এর আগেও ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় রিকশা থেকে পড়ে নারীর মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯ মার্চ উত্তরায় চলন্ত প্রাইভেটকার থেকে ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় রিকশা থেকে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। তাঁর নাম মুক্তা আক্তার (২১)। তিনি সকালে ঈদের কেনাকাটা করতে অটোরিকশায় করে মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন।

সর্বশেষ গত ৩১ মে ঠাকুরগাঁও থেকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন দুই বোন। চাপাতির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ট্রলি ও হ্যান্ডব্যাগসহ অন্যান্য মালপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com