এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। গতকাল মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মোসাদ্দেক হোসেনের পারফরম্যান্সের মহিমা বোঝাতে এর চেয়ে ভালো বিশেষণ আর কি-ই বা হতে পারে! ওয়ানডেতে প্রায় চার বছরের বিরতির পর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেই নিজের প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছেন তিনি।
অথচ এত বছর পর মাত্র দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্যে নেমে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। আবারও ব্যর্থ সাইফ হাসান। মাত্র ৫ রানে আউট হন এই ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন।
১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ দল।
এরপর তাওহিদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হাল ধরলেও কমে আসে রান তোলার গতি। তাওহিদ ধীরে খেলেন, রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই একাদশে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক। তিনি ব্যক্তিগত ২২ রানে জীবন না পেলে আড়াই শ রানের গণ্ডিও হয়তো টপকানো হতো না স্বাগতিকদের। অর্ধশতকের পর আরো দুবার জীবন পান এই ব্যাটার। তবে ভাগ্য এত সুপ্রসন্ন ছিল না তাওহিদের। ৩১ রানে আউট হন তিনি। অধিনায়ক মিরাজও সুবিধা করতে পারেননি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৩ রান। তবে হাল ধরে রাখেন মোসাদ্দেক। অষ্টম উইকেট জুটিতে তাসকিন আহমেদের (২০) সঙ্গে যোগ করেন ৪৫ রান। তাঁর ৭০ বলে ৮৬ রানের ইনিংসের সৌজন্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। যেখানে ৭টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কাও মারেন মোসাদ্দেক।
মিরপুরের বদলে যাওয়া উইকেটে এই লক্ষ্যকে আরো পাহাড়সম বানান বাংলাদেশি বোলাররা। শুরুতেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন এই ডানহাতি পেসার। পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে (১) আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অজিরা। কুপার কনোলিকে নিয়ে লড়াই চালান অধিনায়ক জশ ইংলিশ। এই জুটি বড় হওয়ার আগে আঘাত হানেন নাহিদ। ১৯ রানে থাকা ইংলিশকে আউট করার পর উদযাপনেও আগ্রাসী হন ডানহাতি গতি তারকা। ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কও মেজাজ হারান। তখন বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। গোটা ম্যাচে রোমাঞ্চ বলতে এতটুকুই। এ ছাড়া ব্যাট-বলের লড়াই জমাতে পারেনি সফরকারীরা।
পরে ৩৫ রানে থাকা কনোলিকে আউট করেন মোসাদ্দেক। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারের বাকি ধসটুকু নামান নাহিদ। তাঁর পেস-আগুনে শিকার হন অ্যালেক্স ক্যারি (৪৭)। ছয় নম্বরে নেমে এক প্রান্ত আগলে খেলেন ক্যামেরুন গ্রিন, কিন্তু অন্য প্রান্তের ব্যাটারদের সুবিধা করতে দেননি নাহিদ। তাঁর দাপটে ১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারালে হার অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় অজিদের। শেষ উইকেটে অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে জুটি গড়েন গ্রিন। এই জুটির ৩৫ রানের সময় বৃষ্টি শুরু হলে পরে আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। এতে বৃষ্টি আইনে লেখা হয় অজিবধের গল্প। যেটি লেখা মোসাদ্দেকের হাতেই!
বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৮৪/৮
অস্ট্রেলিয়া : ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯
ফল : বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী (বৃষ্টি আইনে)
ম্যাচসেরা : মোসাদ্দেক হোসেন (বাংলাদেশ)