মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

লবণ সংকট ও দাম কম পাওয়ায় চামড়া ফেলে দিলেন ব্যবসায়ীরা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারে কোরবানির পশুর চামড়া পঁচে নষ্ট হয়েছে। লবণ সংকট ও দাম কম পাওয়ায় চামড়া বিক্রি না করে নদী ও সড়কে ফেলা দেওয়া সঠিক কাজ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, লোকসান দিতে দিতে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

 

শুক্রবার ( ২৯ মে) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বালিকান্দি গ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা ঠেলাগাড়ি বোঝাই করে শত শত চামড়া মনু নদীতে ফেলে দিচ্ছেন।

যমনা নদীর তীরে কথা হলে চামড়া ব্যবসায়ী হাফিজ এনামুল হক শাহনুর বলেন, “লবণ সংকটের কারণে আমরা চামড়া নষ্ট ঠেকাতে পারিনি। এ কারণে আমি ৪০০-৫০০ চামড়া নদীতে ফেলে দিচ্ছি।”

 

চামড়া শ্রমিক আল-আমিন বলেন, “প্রতিবছর কোরবানির ঈদ আসলে লবণের দাম বেড়ে যায়। চামড়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া করতে না পারায় আমি মালিকের ৪০০ চামড়া নদীতে ফেলে দিচ্ছি।”

মৌলভীবাজার-কুলাউড়া আঞ্চলিক সড়কের ১০টি স্পটে চামড়ার স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কে বা কারা এগুলো ফেলে রেখেছে তা জানা যায়নি। চামড়ার দুর্গন্ধে সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।

 

ফরহাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, “সড়কে চামড়া পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কারা এভাবে চামড়া ফেলে গেছে তা কেউ জানে না। এখন এই চামড়া সরানো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে, শিয়াল কুকুর টেনে টেনে পরিবেশ আরো দূষিত করবে।”

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি সুন্দর মিয়া বলেন, “এক সময় মৌলভীবাজারে পশু কোরবানি হয়ে যাওয়ার পরপরই চামড়া ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি হাজির হতেন। তারা কখনো কখনো চামড়া নিতে অগ্রিম টাকা দিয়ে আসতেন, কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে ভিন্ন চিত্র দেখছি। সাড়া দিন চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মেলে না। দিনভর অপেক্ষা করার পরও কোন ব্যবসায়ীর দেখা পায়নি। কেউ কেউ ক্ষোভে বাড়িতেই পশুর চামড়া গর্ত করে পুঁতে ফেলেছেন।”

 

বালিকান্দি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কোরবানির ঈদ আমাদের ব্যবসার একটি মূল উপলক্ষ। ট্যানারি সিন্ডিকেট তো আছেই, এবার লবণের দাম বেড়ে ৪০ কেজি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবণের কারণে আমরা প্রাথমিকভাবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে পারিনি। কয়েকশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। পরিবেশ নষ্ট হওয়ার
ভয়ে এগুলো নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে।”

বালকান্দি গ্রামের চামরা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মো. আনোয়ার বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। এ ব্যবসা করে আমরা পথের ভিখারি হয়ে গেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের নিয়ে মিটিং করা হয়। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম, লবনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন সব সম্যার সমাধান করবেন। তারা তাদের কথা রক্ষা করতে পারেননি। তাই চামড়া নষ্ট হয়েছে, নষ্ট চামড়া নদীতে ফেলে দিতে হচ্ছে।”

 

মৌলভীবাজার চামরা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত আলী বলেন, “বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা ধরে রাখার জন্য আমরা সবসময় ব্যবসা করি। সরকার যদি আর্ন্তজাতিক বাজারে দেশী চামড়া রপ্তানি ক্ষেত্রে ভূমিকা না রাখতে পারে ও বিদেশি বায়রাদের আকৃষ্ট করতে না পারে তাহলে দেশের চামড়া শিল্প অচিরেই ধংস হবে।”

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল ধরেননি মৌলভীবাজারের জেলা প্রসাশক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।

 

সম্পর্কিত বিষয়:

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com