আইনি বিধান অনুযায়ী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবেক ছাত্রদল নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁই আগামী অধিবেশনে যোগ দেবেন।
সূত্রগুলো জানায়, ত্রয়োদশ সংসদের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের বেশির ভাগই সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির বিভিন্ন ধারায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন রুমিন ফারহানা। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। নির্বাচনী এলাকায়ও আলাদা অবস্থান বজায় রেখেছেন। প্রতিপক্ষের হামলার শিকারও হয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আপাতত কোনো দলের ব্যানারে নয়, নিজস্ব অবস্থান থেকে মানুষের পক্ষে কথা বলতে চান।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের প্রতি আমার কোনো কষ্ট বা ক্ষোভ নেই। দলের দুঃসময়ে আমি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাজ করেছি। আবার জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমি জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখতে চাই।’
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জয়ী হলেও অন্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের দলপন্থী অবস্থানে দেখা গেছে। আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বাইরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিরোধী দলের মতো শপথ নেননি। এরই মধ্যে তাঁরা নিজেদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। দলীয় উচ্চ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দল চাইলে ফিরে যেতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘আমরা সাতজন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হলেও সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। আপাতত ছয়জন জোটবদ্ধভাবে কাজ করছি। সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ আছে। আশা করি, তিনিও আমাদের সঙ্গে ভূমিকা রাখবেন। আর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ভিন্নভাবে ভূমিকা রাখছেন।’