মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সহিংসতা দমনে জনজীবনে আতঙ্ক দায় এড়াতে পারে না সরকার

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে
দেশে চলমান সহিংসতা, মব সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতন, দমন-পীড়ন এবং জননিরাপত্তার চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। তাঁরা বলেছেন, বর্তমান সময়ে শিশু, নারী, সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষ ক্রমাগত ভয় ও অনিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করছে।

এই সামগ্রিক পরিস্থিতির দায় সরকার এড়াতে পারে না। 

গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো ‘সাধারণ নাগরিক’-এর ব্যানারে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের ২২ জন বিশিষ্ট নাগরিক এসব কথা বলেন।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা সই করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে আইনের অপপ্রয়োগ এবং মব সন্ত্রাস উদ্বেগজনকভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

মাত্র সাত দিনে চারটি কন্যাশিশু ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে, যা দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরো উৎসাহী করছে। 

আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিয়েও বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নাগরিকরা বলেন, একদিকে মব সন্ত্রাস ও সহিংসতা চলছে, অন্যদিকে হামের টিকার ঘাটতি এবং সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর মিছিল ক্রমেই বাড়ছে।

বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান নারী-শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যুর দায় কারা নেবে? স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা কোথায়? দায়বদ্ধতা কি আবারও আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির আড়ালে হারিয়ে যাবে? 

নাগরিক সমাজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, নীরবতা কখনোই দায় মুছে দিতে পারে না এবং অস্বীকার কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। নিরাপত্তা, মর্যাদা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার।

বিবৃতিতে অবিলম্বে দুটি দাবি জানিয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়। প্রথমত, ক্রমবর্ধমান নারী-শিশু ধর্ষণ ও হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে
এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও রাশেদা কে চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও ছায়ানটের সভাপতি ড. সারওয়ার আলী, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নিজেরা করির নির্বাহী পরিচালক খুশী কবির, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ, অধ্যাপক এম এম আকাশ, ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী, ডা. লেলিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহিদুল বারী প্রমুখ।

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com