মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র হচ্ছে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী রবিবার সমুদ্রের ২৬টি অফশোর ব্লকে অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রকাশ করবে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশি বহুজাতিক জ্বালানি কম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে এবার দরপত্রের শর্ত আগের তুলনায় অনেক বেশি বিনিয়োগবান্ধব ও আকর্ষণীয় করা হয়েছে। 

সমুদ্রসীমা বিজয়ের এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও মায়ানমার যেখানে সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ আবিষ্কারে এগিয়ে গেছে, সেখানে বাংলাদেশ দেড় দশক ধরে ব্যর্থতার বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আহবান করা সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে সাতটি বিদেশি বহুজাতিক কম্পানি দরপত্রের নথি কিনলেও শেষ পর্যন্ত একটিও দরপত্র জমা দেয়নি।

 

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, সংশোধিত ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’-এ অনেক কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনুসন্ধান পর্যায়ে আগের মতো ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দিতে হবে না; এখন কম্পানিগুলো মাত্র ২০ শতাংশ এলাকা ত্যাগ করবে। এ ছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে মুনাফার অংশ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আগে উচ্চ সালফার ফুয়েল অয়েলের দামের ভিত্তিতে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হলেও এখন তা ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম নির্ধারণ হবে তিন মাসের গড় ব্রেন্ট মূল্যের ১১ শতাংশ পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির চাপ বিবেচনায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্টের (পিএসসি) পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬-এর আওতায় দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন পেয়েছি। খুব শিগগিরই এসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

আন্তর্জাতিক তেল কম্পানিগুলোর (আইওসি) কাছে পিএসসিকে আরো আকর্ষণীয় করতে ওয়েলহেড গ্যাসের মূল্য ক্রুড ব্রেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইন ট্যারিফ যুক্ত করা হয়েছে এবং পূর্ব অভিজ্ঞতার শর্তেও আরো নমনীয়তা আনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে অধিকসংখ্যক আইওসি দরপত্রে অংশ নেবে বলে আমরা আশাবাদী।’ 

এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রবিবার আন্তর্জাতিক দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বহুজাতিক কম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্যাসের মূল্য কাঠামো, পাইপলাইন নির্মাণ ব্যয়, তথ্য-উপাত্তের মূল্য এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অংশগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ জুন থেকে প্রমোশনাল প্যাকেজ বিক্রি শুরু হবে এবং দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর। এর মধ্যে আগ্রহী বিদেশি কম্পানিগুলো বঙ্গোপসাগরের জরিপ তথ্য ও কারিগরি উপাত্ত সংগ্রহ করে দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দেশে ও বিদেশে রোড শো, সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অংশে গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি ব্লকসহ ২৬টি ব্লক রয়েছে। ২০১০ সালে কনোকোফিলিপস দুটি গভীর সমুদ্র ব্লকে কাজ শুরু করলেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়ায় সরে যায়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস ও দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু চুক্তি বাতিল করে চলে যায়। ২০১৯ সালে একমাত্র কম্পানি হিসেবে কাজ শুরু করে ভারতের ওএনজিসি। একটি কূপ খনন করে তারা গ্যাসের সন্ধান পায়নি। দ্বিতীয় কূপ খনন না করেই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। এবার সংশোধিত শর্তে আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে সরকার।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কম্পানি এক্সনমবিল ও শেভরন এরই মধ্যে এই দরপত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলো এখন নতুন সম্ভাবনাময় অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অফশোর খাত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

বর্তমানে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুত কমে আসছে। পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) হলেও ২২.১১ টিসিএফ এরই মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে মাত্র ৭.৬৩ টিসিএফ। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দামও বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ভর্তুকির চাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বলেছেন, সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশীয় স্বার্থ রক্ষা করেই বিদেশি কম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com