বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

চীনে কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন মাত্রা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছে। এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় শিল্প-পরিবেশ, চিকিৎসা, রোবটিক টেকনোলজি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া প্রভৃতি বিষয় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সফরকারীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বেড়েছে। তাই বিএনপির এই সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

জানা গেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় চীন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও এ সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেয়।

তাদের তিনটি প্রদেশ দেখানো হয়। চীনের এক নীতি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে অগ্রগতি নিয়ে ধারণা দেওয়া হয়। বিএনপি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মনে করেন, এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় কাজে লাগানো যেতে পারে। 

বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আইডিসিপিসি ভবনে দুটি সভা হয়।

বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদল গণচীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং-এর সঙ্গে গ্রেট হল অন দ্য পিপল এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং-এর সঙ্গে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সিপিসি এবং বিএনপির মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন, দ্বিপক্ষীয় সফর এবং নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক মতবিনিময়ের লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। 

সফরকালে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করেছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, টেকসই ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সদিচ্ছা ও অংশীদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি চীনা ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়া ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরো জোরদার হবে। 

প্রতিরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি আরো বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি পরিশোধন প্রযুক্তি এবং গ্রামীণ উন্নয়নে চীনের সাফল্য থেকে বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে আগ্রহী। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ শক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, ব্যাটারিসহ হালকা ও মাঝারি শিল্পে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চীনের ভূমিকা কামনা করেন। বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের বিষয়ে অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিএনপি প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি, শামসুজ্জামান দুদু,  ড. আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন এমপি, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, নজমুল হক নান্নু, বেবী নাজনীন, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি, কামরুজ্জামান রতন এমপি, নীলুফার চৌধুরী মনি, সায়েদ আল নোমান এমপি, মনোয়ার হোসেন এমপি, সানজিদা ইসলাম তুলি, যুবদলের কামাল আনোয়ার আহমেদ, কৃষিবিদ ইউনুস আলী, ছাত্রদলের আমান উল্লাহ আমান ও বিএনআরসির মীর সোলাইমান।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বিএনপিসহ বাংলাদেশের প্রায় সব কটি রাজননৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে চীনের পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়। তখন বিএনপির অন্তত চারটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করে।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো বিশেষ করে চীন রোবটিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে অনেক এগিয়ে গেছে, যা সামরিক ও কৃষি—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চীন তাদের উন্নয়ন মডেলের মাধ্যমে একটি বার্তা দিতে চায়, সহযোগিতা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমেই অগ্রগতি সম্ভব।’

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেডিক্যাল সেক্টরে কিভাবে ডেভেলপ করা যায়, তারা কী ধরনের সহযোগিতা করতে পারে—সে ব্যাপারে আমাদের মহাসচিব কথা বলেছেন।’

ডা. রফিক আরো বলেন, ‘সমুদ্র দূষিত না করে কিভাবে জীবজন্তুকে বাঁচিয়ে রাখা যায় এবং সেখান থেকে কিভাবে বিদ্যুতায়ন করা যেতে পারে এগুলো আমাদের তারা উৎসাহিত করেছে এবং তারা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছে।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com