বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আসুন একটু জেনে নিই আমাদের মুক্তাগাছা সম্পর্কে।

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে
আসুন একটু জেনে নিই আমাদের মুক্তাগাছা সম্পর্কে।
মুক্তাগাছা হলো বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা, যা ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এটি প্রধানত মুক্তাগাছার রাজবাড়ি এবং সুস্বাদু মণ্ডার জন্য দেশব্যাপী পরিচিত।
​মুক্তাগাছা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
​১. ইতিহাস ও নামজগত:
মুক্তাগাছা ছিল প্রাচীনকালে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জমিদারদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। শোনা যায়, আঠারো শতকের প্রথমদিকে জমিদার শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরী মালদহ থেকে এসে এই এলাকায় তাঁর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এলাকাটিতে ‘মুক্তারাম’ নামে এক কামার বা গাছ কাটিয়া প্রথম বসতি স্থাপন করেছিলেন। জমিদার শ্রীকৃষ্ণ তাঁর কাছ থেকে কিছু উপহার পেয়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বা সেই কামারের সম্মানার্থে এলাকাটির নাম রাখেন ‘মুক্তাগাছা’। পরবর্তীকালে শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর পুত্রগণ ভিন্ন ভিন্ন হিস্যায় এখানে বিশাল সব রাজপ্রাসাদ এবং স্থাপনা নির্মাণ করেন।
​২. মুক্তাগাছার রাজবাড়ি:
মুক্তাগাছার রাজবাড়ি (বা আচার্য চৌধুরী রাজবাড়ি) বাংলার অনন্য স্থাপত্যশৈলীর এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এই বাড়িটি আসলে ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন প্রাসাদের একটি কমপ্লেক্স বা গুচ্ছ ছিল, যা জমিদার বংশের বিভিন্ন শাখা ব্যবহার করতেন। পুরো রাজবাড়িটি একটি বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত, যার ভেতরে হাতিশালা, ঘোড়াশাল, চিড়িয়াখানা, নাচের হল এবং বিশাল লাইব্রেরি ছিল। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর জমিদাররা ভারত চলে গেলে এই রাজবাড়িগুলোর অনেক অংশ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। তবে এখনো এর কিছু অংশ টিকে আছে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি সংরক্ষণ করছে। রাজবাড়ির মূল ফটকটি খুবই চমৎকার, যা ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। পর্যটকরা এখনো এই রাজবাড়িতে ঘুরতে গিয়ে জমিদার আমলের ঐশ্বর্য এবং জীবনযাত্রার স্মৃতি দেখতে পান।
​৩. মুক্তাগাছার মণ্ডা (মিষ্টান্ন):
মুক্তাগাছার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো এর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ‘মণ্ডা’। এটি একটি গোল আকারের বিশেষ ধরনের ছানার মিষ্টি, যা অত্যন্ত সুস্বাদু এবং দীর্ঘকাল সংরক্ষণযোগ্য। শোনা যায়, জমিদার বংশের শুরুর দিকে গোপাল পাল নামের এক ব্যক্তি এই মণ্ডা তৈরি করেছিলেন এবং এটি রাজা বা জমিদারদের খুবই পছন্দের খাবার ছিল। জমিদার আমলে গোপাল পালকে বিশেষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হতো মণ্ডা তৈরির জন্য। আজও মুক্তাগাছার রাজবাড়ির সামনে অবস্থিত মূল গোপাল পালের মণ্ডার দোকান দেশজুড়ে মিষ্টিপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ।
​৪. অন্যান্য আকর্ষণ এবং সংস্কৃতি:
মুক্তাগাছা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় উৎসবের জন্য ঐতিহাসিক কাল থেকেই অগ্রণী ছিল। এখানে ঐতিহ্যবাহী মন্দির, যেমন শিবমন্দির, রাজবাড়ির ভেতরের মন্দিরগুলো আজও ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। জমিদারদের আমল থেকে এখানে দুর্গা পূজা, রাস যাত্রা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বড় আকারে পালিত হতো। মুক্তাগাছার আশেপাশের এলাকাগুলো বেশ সবুজ এবং মনোরম।
​৫. বর্তমানে মুক্তাগাছা:
বর্তমানে মুক্তাগাছা ময়মনসিংহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কেন্দ্র। রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ এবং ঐতিহাসিক গল্পগুলি আজও এখানে প্রচুর দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। মিষ্টান্ন শিল্পের কেন্দ্র হিসেবেও এটির অবস্থান অনন্য।
​সহজ কথায়, মুক্তাগাছা হলো ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ মিশ্রণ, যা বাংলার জমিদার আমলের গৌরব আজও তার রাজবাড়ি আর মণ্ডার স্বাদ দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com