মানবসভ্যতার প্রাচীনতম শিল্পমাধ্যম নৃত্য। নেচে ও নাচ দেখে নির্মল আনন্দ মেলে। এটি মানুষের বহুমাত্রিক রোগ নিরাময়ও করতে পারে। নৃত্যকে শরীরচর্চার একটি বড় মাধ্যম মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। জুম্বা প্রশিক্ষক সুমাইয়া চৌধুরী বলেন, ‘নাচলে মানুষের রাগ, ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা দূর হয়। এ ছাড়া আমাদের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে নাচ। অবসাদ, একাকিত্ব দূর করতেও সাহায্য করে। নিমেষেই মন ফুরফুরে করতে নাচের জুড়ি নেই। ’ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ছাড়াও নাচের আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। হাঁটার বিকল্প ব্যায়াম : হাঁটাহাঁটির চেয়ে নাচেই বেশি উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত নাচলে হাড় মজবুত হয়। পেশির শক্তি ও নমনীয়তা বাড়ে। মানসিক চাপ কমাতে : প্রতিদিন যদি কেউ নাচে, তাহলে তার দুশ্চিন্তা দূর হয়। মানসিক চাপ সামলাতেও নিয়মিত নাচলে উপকার পাওয়া যায়। মানসিক অবসাদে ভুগছে কিংবা দুশ্চিন্তায় রয়েছে এমন মানুষের ক্ষেত্রে নাচ থেরাপি হিসেবে কাজ করে। গানের তালে তালে নৃত্য করতে হয়। গান মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর নাচের মাধ্যমে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া হয়। এতে সেরোটোনিন বাড়ে। মন ও শরীর উভয়ের ওপরই প্রভা ফেলে নাচ। শরীরের ব্যথা নিরাময়ে : দীর্ঘদিন ধরে ব্যথায় ভুগছে এমন মানুষের জন্যও নাচ উপকারী। শর্ত হলো, নিয়মিত নাচতে হবে। আলঝেইমার’স রোধে : নিয়মিত নাচলে ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়ে। কগনিটিভ স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মনের ওপর। নিয়মিত নাচের অনুশীলন মস্তিষ্কের জটিল রোগ আলঝেইমার’স-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাপনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আলঝেইমার’স মস্তিষ্কের এক ধরনের অস্বাভাবিকতা, যাতে সাধারণত স্মৃতিভ্রংশ হয়। সিজোফ্রেনিয়ার মতো মস্তিষ্কের মারাত্মক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাচ ভীষণ উপকারী। শরীরচর্চা হয় : নৃত্য শরীরচর্চার স্বতন্ত্র একটি মাধ্যম। যেমন—সাইকেল চালানো শরীরচর্চার বড় মাধ্যম। কিন্তু সাইকেল চালানোর মতো শরীরচর্চার মাধ্যমগুলোর চেয়েও নাচ ভিন্ন। বলা হচ্ছে, নৃত্য একজন মানুষকে স্বতন্ত্রভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ করে দেয়। শরীরে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় : নাচের ধরনের শেষ নেই। নাচের সময় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিভিন্ন গতি ও ভঙ্গিমায় নড়াচড়া করতে হয়। এতে শরীরের জোড় ও মাংসপেশিগুলো স্থিতিস্থাপক হয়। এতে মাংসপেশিতে সহজে টান ধরে না। আপনি স্ট্রেচিং করে যেসব উপকার পাবেন নাচের মাধ্যমেও তা পাওয়া সম্ভব। ওজন নিয়ন্ত্রণে : ওজন কমাতেও নিয়মিত নাচতে পারেন। ওজন কমাতে অ্যারোবিক নাচের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য ব্যায়ামের তুলনায় নাচ অনেক উপভোগ্য। এ জন্য হঠাত্ ছেড়ে দিতে মন চায় না। হূদযন্ত্রের সুস্থতায় : উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও হূদরোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। দ্রুত লয়ের নাচও এ ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর। এতে হূিপণ্ডের কার্যকারিতা বাড়ে। স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক কম হয়। তারুণ্য ধরে রাখে : নিয়মিত নাচলে শরীরে কোলাজেনের উত্পাদন বাড়ে। এটি আমাদের ত্বক ভালো রাখে। ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার গতি কমিয়ে দেয়। তারুণ্য ধরে রাখে। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে : নাচ আপনার আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়াতে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। কঠিন মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
ঢাকা অফিস
-
আপডেট:
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
-
৭
বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় একজন শিক্ষক ও তার এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মুনিরা মাহজাবিন মিমো থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি বাড্ডার একটি বাসায় মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন।
তার মৃতদেহের কাছ থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থেকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…’
গুলশান জোনের (বাড্ডা) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া কিছু আলামতের ভিত্তিতে বিভাগের একজন শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। একই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা জানিয়েছেন, বিষয়টি জানতে পেরে বিভাগের শিক্ষকরা তার বাসায় যান। তার মোবাইল ফোনের কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন শিক্ষকের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে।
ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের আরো সংবাদ