বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নতুন তালিকা না লাগিয়েই অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে
বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানোর সরকারি ঘোষণার পরদিনই রাজধানীর গণপরিবহনে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বিআরটিএ নতুন ভাড়ার তালিকা দিলেও ভাড়ার চার্ট বাসে লাগায়নি অনেকে। কিন্তু আনুমানিক হিসাবে বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করেছেন অনেক বাসের চালক ও সহকারীরা।

ঢাকা মহানগরীর ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ২০ টাকা বাড়লেও দূরপাল্লার পরিবহনে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

বিআরটিএ শুক্রবার তালিকা সরবরাহ করলেও এ তালিকা এখনো বাস কম্পানিগুলোর হাতে পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি। রাজধানীর বিভিন্ন রুট ঘুরে দেখা গেছে, দূরত্বভেদে পাঁচ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাবি করা হচ্ছে। কোথাও যাত্রীদের আপত্তিতে আগের ভাড়ায় নামিয়ে আনা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর বৃহস্পতিবার বাসভাড়া সমন্বয়ের ঘোষণা দেয় সরকার।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসে ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি দুই টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে দুই টাকা ৫৩ পয়সা হয়েছে। দূরপাল্লায় ভাড়া দুই টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে দুই টাকা ২৩ পয়সা। আর ডিটিসিএ এলাকায় ভাড়া দুই টাকা ৩২ পয়সা থেকে বেড়ে দুই টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হিসাবে নগর পরিবহনে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪.৫ শতাংশ এবং দূরপাল্লায় ৫.১ শতাংশ।
তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। গাবতলী-যাত্রাবাড়ী রুটে চলাচলকারী ৭ নম্বর বাসের সহকারী মো. সোহাগ জানান, আগে ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ৪০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ‘সরকার ভাড়া বাড়াইছে, তাই আমরা পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেশি চাইতেছি। কেউ দেয়, কেউ দেয় না। নতুন চার্ট এলে সবাই দিতে বাধ্য হবে।
’ 

ওয়েবিলের নামে অত্যাচার : একদিকে তালিকা না থাকায় পরিবহনভেদে ভাড়ার তারতম্য তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওয়েবিলের নামে ঢাকার একাধিক বাস কম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। মোহাম্মদপুর থেকে উত্তরাগামী ভূইয়া পরিবহন, মোহাম্মদপুর থেকে রামপুরা রুটে রমজান পরিবহন, মোহাম্মদপুর থেকে যাত্রাবাড়ী রুটে রজনীগন্ধা পরিবহনসহ একাধিক বাস ওয়েবিল সিস্টেমে চলে। একজন যাত্রী যত দূরত্বই যাক তাদের রাস্তয় থাকা টিকিট চেকার অনুযায়ী ২০ থেকে ২৫ টাকা ভাড়া গুনতে হয়।

দূরপাল্লার বাসে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের : ঢাকা মহানগরীর মতো দূরপাল্লার পরিবহনেও একই চিত্র। গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে গতকাল শনিবার গিয়ে দেখা গেছে, একই রুটে বিভিন্ন কম্পানিতে ভাড়া ভিন্ন ভিন্ন। কোথাও ৫০ টাকা, আবার কোথাও ১০০ টাকা, এমনকি ৩০০ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-বরিশাল রুটে বিভিন্ন পরিবহনে ভাড়া ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।  নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে কালের কণ্ঠকে বলেন, কার্যকর তদারকি না থাকলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বাড়তেই থাকবে। এ জন্য ভাড়ার তালিকা দ্রুত প্রকাশ, বাসে তা টাঙানো এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নজরদারি জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত ফরম্যাটে রুটভিত্তিক ভাড়ার তালিকা প্রকাশ না করায় মাঠ পর্যায়ে পরিবহনগুলো নিজেদের মতো ভাড়া নির্ধারণ করছে। এতে একই রুটে ভাড়ার ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বাড়ছে। কার্যকর তদারকি জোরদার না হলে এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। বাসভাড়া বাড়ানো হয়নি, সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘ভাড়া নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভাড়া বাড়ানো হয় নাই, সমন্বয় করা হয়েছে।’

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com