বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

গণরায় অস্বীকারের মধ্য দিয়ে বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা করেছে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি বিভিন্ন বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘তবে হাজার চেষ্টা করলেও আপনারা ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন।’

গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের মৌলিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগে বিএনপি বিরোধিতা করছে।

এর মাধ্যমে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। দলটি গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে ভিন্নমত দমন ও সংঘাতমুখী রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘যেদিন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে, সেদিন থেকেই তারা ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে। বিএনপির সঙ্গে আমরা একসময় একসঙ্গে মজলুম ছিলাম।

কিন্তু এখন তারা সেই পথ থেকে সরে গেছে।’ 

আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘একসময় আওয়ামী লীগ পুরো জাতিকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত। আজ তাদের কী দশা? বিএনপিও একই পথে হাঁটছে।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের ‘পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী’ দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

কিন্তু দুর্দিনে তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। দুটি ভোটের একটিতে তাদের পক্ষে ফল গেলে তা মেনে নিয়েছে, অন্যটিতে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অস্বীকার করেছে—এটা লজ্জার, বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘৭০ শতাংশ ভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।’ 

বিএনপিকে জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান না হলে বিএনপি আজ ক্ষমতার তাপ উপভোগ করতে পারত না। যাঁরা বিদেশে ছিলেন, তাঁরাও দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন এই বিপ্লবের কারণে।

’ 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসুর প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করা হয়েছে। যেদিন তারা (বিএনপি) গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে, সেদিন থেকে তারা ফ্যসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে।’ নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটা কোন বাংলাদেশ? এই বাংলাদেশ কি আপনারা চেয়েছিলেন?’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে দা-কিরিচ-কুড়াল দেখতে চান না উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা খাতা-কলম দেখতে চাই। কোনো আদুভাই-দাদুভাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আমাদের সন্তানদের ওপর ছড়ি ঘুরাক, এটা দেখতে চাই না। এই সংস্কৃতি যদি বন্ধ না করেন, মনে রাখবেন, জুলাই শুধু ’২৪ সালে ছিল না, জুলাই প্রত্যেক বছরে আছে। সে জুলাই আবার ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ এবং তখন ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর রচিত হবে।’

সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কি না, জানা নেই। আগামী ছয় মাসে তাদের কী পরিণতি হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’

সমাবেশে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রধান দাবি।’

শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদের দাড়ি-কমাসহ বাস্তবায়ন করতে হবে। যে সংবিধান ভোটাধিকার কেড়ে নেয়, আমরা সেই সংবিধান চাই না।’

গণ-অভ্যুত্থানে আহত আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে আবারও আন্দোলন গড়ে উঠবে।’

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসীম উদ্দিন সরকার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম।

এ ছাড়া শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মিকদাদ হোসেন খান আকিবের বাবা দেলোয়ার হোসেন, শহীদ সৈয়দ মুনতাসীর রহমান আলিফের বাবা গাজিউর রহমান, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, শহীদ ফয়সাল আহমদের বাবা জাকির হোসেন, শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন, শহীদ জোবায়ের ওমর খানের বাবা জাহাঙ্গীর আহমেদ খান, আহত রেসালাত বিন নাঈম ও কামরুল হাসান।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com